চান্দিনা ও বুড়িচং (কুমিল্লা) সংবাদদাতা
কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার মাইজখার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. শাহ্ সেলিম প্রধান গত এক মাস যাবত্ তার কার্যালয়ে প্রবেশ করতে পারছেন না। এর ফলে জন্মনিবন্ধন, ওয়ারিশ, নাগরিক ও জাতীয়তা সনদ প্রাপ্তিতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ঐ ইউনিয়নের লোকজন। ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সামনে স্থানীয় যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও বহিরাগত সন্ত্রাসীদের বাধার মুখে চেয়ারম্যান তার কার্যালয়ে যেতে পারছেন না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মাইজখার ইউপি চেয়ারম্যান মো. শাহ্ সেলিম প্রধান বলেন, ‘২৯ সেপ্টেম্বর আমার ওপর হামলা হয়। আমার ছয় সমর্থককে সন্ত্রাসীরা মারধর করে। অফিস, চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করে। আমার ব্যক্তিগত গাড়ি অন্য স্থানে ভাঙচুর করে। সন্ত্রাসীরা অস্ত্র নিয়ে ইউনিয়ন কমপ্লেক্সে মহড়া দেয়। আমার জীবন ঝুঁকিতে রয়েছে। এজন্য অফিস করতে পারছি না।’ তিনি সাধারণ মানুষের ভোগান্তি লাঘবে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সহযোগিতা কামনা করেন।
জানা যায়, প্রায় ৪০ হাজার ভোটার অধ্যুষিত চান্দিনা উপজেলার মাইজখার ইউনিয়নকে দুই ভাগে ভাগ করতে দীর্ঘ কয়েক বছর যাবত্ চেষ্টা করে আসছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। গত ২৯ সেপ্টেম্বর মাইজখার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিনের আহ্বানে বদরপুরস্থ মাইজখার ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সামনে ইউনিয়ন বিভাজনের জন্য সভা আহ্বান করা হয়। সেই সভায় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শাহ্ সেলিম প্রধানের বক্তৃতাকালে ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ খান সেন্টু বিতর্ক করলে চেয়ারম্যান-সমর্থিত ও সেন্টু-সমর্থিতদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এরপর থেকে ইউনিয়ন যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতারা বদরপুর বাজারে বিক্ষোভ সমাবেশ ডেকে চেয়ারম্যান শাহ্ সেলিম প্রধানকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে।
বদরপুর গ্রামের মো. হোসেন, মো. মহিউদ্দিন মহিন, মেহার গ্রামের মো. ইউনুস প্রধান বলেন, ‘আমরা চেয়ারম্যানের সমর্থক হওয়ার কারণে প্রতিপক্ষের লোকজন বিভিন্ন সময় আমাদের মোবাইলে হুমকিধমকি দেয়। আমরা সব সময় আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি।’
১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মো. রৌশন আলী বলেন, ‘আমরা এই এলাকায় শান্তি চাই। স্থানীয় সংসদ সদস্য চাইলেই বিষয়টি সমাধান করতে পারেন।’
ঐ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. হুমায়ুন কবির বাবুল বলেন, ‘ইউনিয়ন ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কিছু নেতা বদরপুর বাজারে সশস্ত্র মহড়া দেয়। আমার ওপরও তারা হামলার পরিকল্পনা করেছিল। বাজারের ব্যবসায়ীরাও আতঙ্কে রয়েছে।’
অভিযোগের জবাবে মাইজখার ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি জাহিদ হাসান জয় বলেন, ‘আমরা ইউনিয়ন কমপ্লেক্সে সন্ত্রাসী নিয়ে মহড়া দেই বলে যে অভিযোগ তারা তুলেছেন তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। সাবেক চেয়ারম্যান বাবুল সাহেবকে আমি শ্রদ্ধা করি। ওনার ওপর হামলার পরিকল্পনার কথাটিও বানোয়াট।’ ইউনিয়ন যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ খান সেন্টু বলেন, ‘চেয়ারম্যান সাহেব বক্তৃতায় আওয়ামী লীগকে নিয়ে কটূক্তি করেন। আমি বাধা দিলে ওনার লোকজন আমার ওপর হামলা চালায়। স্থানীয়রা আমাকে উদ্ধার করেন।’ জয় বলেন, তিনি জনগণের ভোটে চেয়ারম্যান হয়েছেন। ইউনিয়ন পরিষদে অফিস করবেন এটাই স্বাভাবিক। আমি আমার ওপর হামলার বিচার চাই।’
এ ব্যাপারে চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিভীষণ কান্তি দাশ বলেন, সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।