আগামী মাসেই ভয়ংকর দুই ঘূর্ণিঝড়!

গভীর নিম্নচাপ চলে যাওয়ার পর আকাশ স্বচ্ছ ও উজ্জ্বল এখন। হেমন্তের এই সময়ে হালকা হিম হিম আবহাওয়ার বদলে প্রকৃতিতে তিন দিনের টানা বর্ষার রুদ্রমূর্তি দেখে অনেকেই অবাক হয়েছেন। বর্ষণ শেষে সারা দেশে এখন ঘন কুয়াশায় ঢেকে যাচ্ছে প্রকৃতি। উত্তরের গ্রামীণ জনপদে ঘর থেকে বাইরে বের হলে গা শিউরে উঠছে। ভোরের শিশির সূর্যের আলোয় মুক্তার মতো আলো ছড়িয়ে জানান দিচ্ছে, আসছে শীত। কুয়াশামাখা প্রকৃতি আর মাঠে মাঠে ফসলের সম্ভাবনার ঘ্রাণ, কৃষকের চোখে-মুখে আনন্দের রেখা। এই দৃশ্যপটের মধ্যে আবহাওয়া দপ্তর দুঃসংবাদ দিয়েছে। আগামী মাসে দুটি ঘূর্ণিঝড় ধেয়ে আসার আশঙ্কা করছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের উপপরিচালক কাওসার পারভীন বলেন, শীতের প্রকোপ চলে আসবে কিছুদিনের মধ্যেই। তবে আগামী মাসে এ রকম দু-একটা ঘূর্ণিঝড় হওয়ার আশঙ্কা আছে। অক্টোবর-নভেম্বর হলো ঘূর্ণিঝড়ের মাস। যুক্তরাষ্ট্রের আবহাওয়াবিষয়ক গবেষণা সংস্থা এনসো প্রেডিকশন সেন্টারের প্রধান বিজ্ঞানী রাশেদ চৌধুরী বলেন, এমনিতেই বিশ্বের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার প্রভাব বঙ্গোপসাগরে পড়েছে। কিন্তু এর মধ্যে আবার ‘লা নিনা’র কারণেও তাপমাত্রা আরো বেড়ে গেছে। ফলে এই দুই পরিস্থিতি মিলে এ বছর বঙ্গোপসাগর থেকে ঘন ঘন ঝড়, মেঘমালা ও জলোচ্ছ্বাস আসছে। এ বছরের বাকি সময় জুড়ে এ ধরনের বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে। এনসো প্রেডিকশন সেন্টারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এবারের শীত হবে ভেজা, অর্থাত্ বৃষ্টিবহুল। উত্তপ্ত বঙ্গোপসাগরের কারণে চলতি মাসে একটি ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস আগে থেকেই ছিল। তবে বছরের বাকি সময়ে একাধিক ঘূর্ণিঝড় এবং প্রতি মাসে তিন থেকে চারটি লঘুচাপের আশঙ্কা করছে আবহাওয়াবিষয়ক ঐ সংস্থা। এর প্রভাবে বঙ্গোপসাগর থেকে এই শীতের মধ্যেও ঘন ঘন মেঘ ও বৃষ্টি বাংলাদেশে হানা দিতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের আবহাওয়াবিষয়ক সংস্থা ক্লাইমেট প্রেডিকশন সেন্টার বলছে, বঙ্গোপসাগর অস্বাভাবিকভাবে উত্তপ্ত হয়ে গেছে। গত ৩০ বছরের মধ্যে বঙ্গোপসাগরের তাপমাত্রা এই সময়ে সবচেয়ে বেশি। বছরের এই সময়ে বঙ্গোপসাগরে তাপমাত্রা থাকার কথা ২৭ থেকে ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ছয় মাস ধরে সেখানে তাপমাত্রা ২৯ থেকে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ছিল। বঙ্গোপসাগরে তাপমাত্রা বাড়ার কারণে এ বছর স্বাভাবিকের চেয়ে ২০ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হয়েছে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, নভেম্বরে দেশে একাধিক ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনা রয়েছে। সেই ঝড়ের পরেই পুরোদস্তুর শীত নামবে।