ইথিলিন একটি গ্যাসীয় পদার্থ

এসএসসি- ২০২১  

জীববিজ্ঞান

মো. আসাদ-উজ্জামান, শিক্ষক

সরকারি মোহাম্মদপুর মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ

ঢাকা

হরমোন :যে সকল রাসায়নিক বস্তু কোষে উত্পন্ন হয়ে উত্পত্তিস্থল থেকে বাহিত হয়ে দূরবর্তী স্থানের কোষের কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ করে তাকে হরমোন বলে।

ফাইটো হরমোন:উদ্ভিদ দেহে উত্পাদিত যেসব জৈব রাসায়নিক পদার্থ অতি অল্প ঘনত্বে বিদ্যমান থেকে উদ্ভিদের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে তাকে ফাইটো হরমোন/বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রক পদার্থ বলে।

বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রক পদার্থ দুই ধরনের, যথা-

¡ বৃদ্ধি সহায়ক পদার্থ- অক্সিন, জিব্বেরেলিন, সাইটোকাইনিন।

¡ বৃদ্ধি রোধক পদার্থ- অ্যাবসিসিক এসিড/ ডরমিন, ইথিলিন।

অক্সিন: অক্সিন এক ধরনের এসিড ধর্মী জৈব যৌগ যা উদ্ভিদের মূল ও কাণ্ডের শীর্ষভাগে উত্পন্ন হয়। চার্লস রবার্ট ডারউইন এ হরমোন প্রথম আবিষ্কার করেন।

কাজ/ প্রভাব :

¡ অক্সিন কোষের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি করে।

¡ শীর্ষ প্রকটতা সৃষ্টি করে।

¡ মূল সৃষ্টির সূচনা করে, ফলে মূলের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়।

¡ বীজহীন ফল সৃষ্টিতে সহায়তা করে।

¡ ফলের অকাল ঝরে পড়া রোধ করে।

¡ কোনো কোনো অক্সিন আগাছা দমনে ব্যবহূত হয়।

জিব্বেরেলিন ঃ জিব্বেরেলিন এক ধরনের বৃদ্ধি সহায়ক ফাইটোহরমোন। এরা উদ্ভিদের বীজপত্র ও পাতার বর্ধিষ্ণু অঞ্চলে অবস্থান করে।

কাজ/ প্রভাব :

¡ জিব্বেরেলিন কাণ্ডের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি করে।

¡ বীজের ও কুঁড়ির সুপ্ততা ভঙ্গ করে।

¡ বীজের অঙ্কুরোদগমের হার বাড়াতে সহায়তা করে।

¡ গাছে ফলের সংখ্যা বাড়াতে সহায়তা করে।

¡ উদ্ভিদের ফুল ফোটাতে সহায়তা করে।

ফ্লোরিজেন: ফ্লোরিজেন উদ্ভিদের ফুল উত্পন্নকারী একটি ফাইটো হরমোন। এটি পাতায় উত্পন্ন হয় এবং তা পত্রমূলে স্থানান্তরিত হয়ে পত্র মুকুলকে পুষ্পমুকুলে পরিণত করে।

ইথিলিন : ইথিলিন একটি গ্যাসীয় পদার্থ। এ হরমোনটি ফুল, ফল, পাতা, বীজ ও মূলে দেখা যায়। এর প্রভাবে চারা গাছের বিকৃত বৃদ্ধি লক্ষ্য করা যায়।

অ্যাবসিসিক এসিড :এটি উদ্ভিদের বৃদ্ধিরোধক ফাইটোহরমোন।

কাজ/ প্রভাব :

¡ এর প্রভাবে উদ্ভিদের পাতা ঝরে যায়।

¡ কুঁড়ি ঝরে যায়।

¡ কুঁড়ির বৃদ্ধি রহিত হয়।

ট্রপিক চলন :

আলো, ভূমি, পানি ও রাসায়নিক পদার্থের প্রভাবে উদ্ভিদের বিভিন্ন অঙ্গের চলন ঘটে। এরূপ চলনকে উদ্ভিদের ট্রপিক চলন বলে। কিছু কিছু অভ্যন্তরীণ ও বহি:উদ্দীপক উদ্ভিদ দেহে উদ্দীপনা সৃষ্টি করে, ফলে উদ্ভিদের বিভিন্ন অঙ্গের বৃদ্ধি ঘটে ও চলন সংঘটিত হয়।

যেমন- আলোর প্রভাবে উদ্ভিদের কাণ্ডের আলোর দিকে চলন।