অণুগল্প

পাথর সময়

রেজাউল করিম খোকন

 

হঠাত্ এভাবে একটানা দীর্ঘদিন ছুটির মধ্যে বাসায় ঘরবন্দি হয়ে সময় কাটাতে হবে কোনোদিন স্বপ্নেও ভাবেনি শাহেদ। টিভি খুললেই দেশজুড়ে সতর্কতামূলক নানা কর্মকাণ্ড, সংক্রমণ প্রতিরোধে নানা ব্যবস্থা, বিশ্বজুড়ে নানা দেশে মৃত্যু মিছিল। কেউ কেউ বলছেন আগামী দিনগুলোতে আরো ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে। অনেক প্রয়োজনেও বাইরে যাচ্ছে না। কিন্তু তারপরও বিপদমুক্ত থাকার নিশ্চয়তা কতটুকু রয়েছে? অনিশ্চয়তার দোলাচালে দুলছে সবাই।

শাহেদের এ ব্যাপারটা রিমির নজর এড়ায় না। সংসারের হরেক রকম কাজ, রান্নাবান্নার শত ব্যস্ততার মধ্যেও স্বামীর দিকে তার তীক্ষ দৃষ্টি রয়েছে। যে লোকটা অফিসের কাজে সারাক্ষণ ব্যস্ত সময় কাটাত, বাসায় ফিরে বউ-বাচ্চার সঙ্গে মন খুলে কথা বলারও ফুরসত পেত না আগে। এখন পুরোপুরি বেকার, অলস সময় পার করতে হচ্ছে তাকে। এভাবে আর কিছুদিন থাকলে মানসিক, শারীরিক বিপর্যয় ঘটে যেতে পারে।

অনলাইনে বিভিন্ন পত্রপত্রিকা দেখছিল শাহেদ। বিশ্বব্যাপী করোনার ভয়াবহ আক্রমণ তছনছ করে দিয়েছে বিভিন্ন দেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক কাঠামো। লাখ লাখ মানুষ এর মধ্যেই বেকার হয়ে গেছে ইউরোপ, আমেরিকায়। এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এর ধাক্কা এসে লাগতে শুরু করেছে। আগামী দিনগুলোতে এখানেও বেকারত্ব, খাদ্য সংকট, মূল্যস্ফীতি, দারিদ্র্য চরম আকার ধারণ করবে। তখন সুস্থভাবে বসবাস কিংবা স্বস্তিকর জীবনযাপন করাটাই অসম্ভব হয়ে উঠবে।

মনটা ক্রমেই ভারী হয়ে উঠেছে। এখন একটু প্রশান্তি চাই। মনটাকে হালকা করতে না পারলে অস্থিরতায় আরো ডুবে যাবে সে। কিন্তু কে বলতে পারবে, কবে কাটবে এই সংকট? কবে উঠবে নতুন দিনের সূর্য?

 

অলংকরণ :অবিনাশ আচার্য