সম্প্রতি মত্স্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা ওয়ার্ল্ড ফিস, বাংলাদেশ মত্স্য গবেষণা ইনস্টিটিউট ও মত্স্য অধিদপ্তরের পৃথক গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, দেশি প্রজাতির প্রায় ৯১টি মাছ বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে। এসব মাছের মধ্যে রয়েছে পাঙাশের ২টি, গুতুমের ২টি, চেলার ৭টি, ডানকিনার ২টি, ঘরপোইয়ার ২টি, মহাশীরের ৩টি, পুঁটির ১০টি, ভোলের ২টি ও ট্যাংরার ৬টি প্রজাতি। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ বিষয়ক সংস্থা আইইউসিএনের নিয়ম হচ্ছে, সর্বশেষ কোনো একটি মাছের দেখা পাওয়ার পর পরবর্তী ২৫ বছরে যদি সেই প্রজাতির মাছের কোনো অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া না যায়, তাহলে সেটিকে বিলুপ্তি ঘোষণা করা হয়। বাংলাদেশে দেশি প্রজাতির মাছের মধ্যে কিছু প্রজাতি ‘প্রায় বিলুপ্ত’ অবস্থায় রয়েছে। কোনো কোনো প্রজাতি রয়েছে মহাবিপন্ন ও সংকটাপন্ন অবস্থায়।
শিল্পকারখানার বর্জ্যে নদ-নদী দূষণ হওয়াসহ কৃষিজমির কীটনাশক কোনো না কোনোভাবে জলাভূমিতে গিয়ে পড়ে। আবার এ পর্যন্ত দেশে ৩০টির বেশি আগ্রাসী প্রজাতির বিদেশি মাছ ঢুকে পড়েছে। এইসব বিদেশি মাছ ছোট ছোট দেশি মাছ খেয়ে দেশি মাছের সংখ্যা কমিয়ে দিচ্ছে। মিঠাপানির মাছ উত্পাদনের দিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বে প্রথম সারির দেশগুলোর একটি। দেশি মাছের উত্পাদন কমে যাওয়ার মানে হলো সামগ্রিক মত্স্য উত্পাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়া। আমাদের আমিষের চাহিদার প্রায় ৮০ শতাংশ পূরণ হয়ে থাকে মাছ থেকে। আবার গ্রামীণ মানুষের আয়-রোজগারের একটি বড় অংশ হচ্ছে মাছধরা। মাছের উত্পাদন যে করেই হোক বিশেষ করে দেশি মাছের উত্পাদন বাড়াতে হবে। কোনো মাছ বিলুপ্ত হতে দেওয়া যাবে না। সব ধরনের জলাশয়সহ দেশি মাছের বিচরণক্ষেত্র বিনষ্ট হওয়া থেকে রক্ষার বিকল্প নেই। সরকার ইলিশ রক্ষায় যেভাবে অভয়াশ্রম ঘোষণা ও প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা বন্ধসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে, দেশি প্রজাতির মাছ রক্ষায় একইভাবে অভয়াশ্রম গড়ে তুলতে হবে।
সাধন সরকার
৫/এ নারিন্দা লেন, নারিন্দা লেন, সূত্রাপুর, ঢাকা