সাবালিয়ার আলোড়ন

 

বছর দুই না যেতেই থেমে গেল আলোড়ন।

 

সাবালিয়ার নিবিড় নিমগ্নতা দেখি না আর। আশ্চর্য সুরেলা

অজ্ঞাত অসুখে চুপ। সোনালি স্মৃতি বেঘোর—ঘূর্ণিতে আক্রান্ত।

                                                   সমস্ত উল্লাস ভারাতুর।

 

সমৃদ্ধ আলোড়ন যে অবেলায় আহ্লাদ খুয়ে

কুয়াশা কোরাসে নিদ্রাহীন, বোবা

ভুলে ভরা উঁকি দেয় আড়ালে এবং

সারাক্ষণ সঙ্গ ছাড়া

                        ওঁত্ পেতে থাকে যেন

 

বছর দুই না যেতে কেন পরাভূত বুদ্বুদ?

হতাশার হাত ধরে রহস্য গড়িয়ে যায়,

ক্লান্ত হয়ে ছায়া ফেলে বারবার,

                        অজানা দংশনে কেন আত্মহারা?

 

নিরুদ্দেশ চাঁদ

জ্যোত্স্নাও ঝিমিয়ে পড়েছে, কপাট খুলে না যুক্তিতর্কে

আত্মহননের ঘ্রাণ আছড়ে পড়েছে ধৈর্যের বাঁধে

পলেপলে শত শোক কাছে আসে

কুশল ভুলিয়ে।

 

একাকীত্বে গ্রাস করে মুখরতা প্রিয় তিল। আবার

ভেঙে পড়ে স্বপ্নের রাতে। নুয়ে পড়ে অজস্র রঙ, প্রবল বেগে

ঝড় বয়, আঁকড়ে ধরে বিষণ্ন,

                               অথৈ দীর্ঘশ্বাস...

 

যত্রতত্র ডুবে তড়পাচ্ছে;

জাতকুল ভরা দৃষ্টি নিবন্ধিত না হয়ে শূন্যে কাতরাচ্ছে

এবং পরাজয়ের অধিক পরাজিত হয়ে

স্বীকৃতির গ্লানিময় ভুল পথে—

                       কেন ফিরে ফিরে আসে?

 

সরে যাচ্ছে ঘোরলাগা অভিন্ন বৃষ্টি—ভাষাগুলো নিতান্তে

ঠাঁই নিয়েছে শোকের; শূন্যের ভেতর

কান্নার বিবিধ ধারা নড়েচড়ে ওঠে পাশাপাশি।

 

আমার আলোড়ন যে ঘুমে ক্লান্ত, রহস্যও ক্লান্ত

ছিটকে পড়ে কর্কশ স্বরে; যথার্থই

কণ্টকিত সব দোদুল্য মেজাজ

তাড়া খেয়ে—চিত্কার করে ওঠে।

যৌথ বনাবনি

অবশেষে ভেঙচি কাটে সযত্নে।

 

প্রবল অবজ্ঞা শ্যামল ভাবনা,

দুরূহ ব্যথা জরিপে লিপিবদ্ধ করাল ছায়া

সদর-অন্দরে নিপীড়ন শোনা যায়, শুধুই

ছন্দপতনে।

ছেঁকে ধরেছে প্রমত্ত যাতনা;

ভাঙাচোরা বিরহেতে বাড়িয়েছে আলামত

ছায়াহীন স্বপ্ন,

খেরোখাতা বিবর্ণ যে ছন্নছাড়াও জীবন।

 

বোঝাপড়াটা চূর্ণ-বিচূর্ণ—বিষাদময় নিঃশ্বাস,

অপ্রাপ্তি চিড় ধরালো অই—নিষপ্রাণ আলো

বিচ্যুতি ঘটাচ্ছে বৃত্তে, বিমুখিতা মায়াজালে আঁধার

ছুরিবিদ্ধ এবং ম্রিয়মান ঘ্রাণ :

দূরত্বের জুড়ি নেই—সনাতনী হাহাকার একা;

অশুদ্ধ তদারকিতে ওঠানামা সূত্রে—

দাপিয়ে বেড়ায় ঝরা ঘাম, ক্লান্তে সারথী নিগ্রহ

নৈঃসঙ্গ ধোয়াশা মন্ত্রে ক্ষত-বিক্ষত অনুমতিও;

মলিন চাঁদ

আর জোছনা

জর্জরিত বিষে।

 

জীবনপাতা ঝরেছে, উপড়ে ফেলেছে

প্রত্যাশার বিনিময়—

বিভাজনে অনাবৃত রেখা এঁকেই

অসভ্যতার ফেনায় খলবল করছে দহনে।

অবলম্বনহীন সম্পর্ক

অজস্র আখ্যানের অন্তর্কলহে দুলছে অদৃশ্যে,

আড়ালেতে স্থির নেই

                             উদাসী গোপন জলসীমা।

 

এই বিষণ্নতা এই দীর্ঘশ্বাস জীবনের আঁচে

‘শেষতম সত্য যেন’।