যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আর ছয় দিন বাকি। ইতিমধ্যে ৬ কোটির বেশি মার্কিনি আগাম ভোট দিয়েছেন। ২০১৬ সালের নির্বাচনে ১৩ কোটি ৭০ লাখের মতো ভোট পড়েছিল। সেই হিসাবে এবারের নির্বাচনে ইতিমধ্যে ৪৩ শতাংশের বেশি ভোট আগাম পড়েছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এবারের নির্বাচনে রেকর্ড ১৫ কোটি ভোট পড়তে পারে। এটি হবে মোট ভোটের ৬৫ শতাংশ। আর তাহলে ১৯০৮ সালের পর এবারই প্রথম এতসংখ্যক ভোট পড়ছে কোনো প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে। এবারের নির্বাচনে কৃষ্ণাঙ্গরা বেশি সংখ্যায় ভোট দিচ্ছেন। তবে ভোটের এই ধারা দেখে কেউ জোর দিয়ে বলতে পারছেন না যে কে জিতবেন।
আগাম ভোটের সংখ্যা দেখে ধারণা করা হচ্ছে, এক শতকের বেশি সময় পর এবারের নির্বাচনে সর্বোচ্চ ভোট পড়তে পারে। কারণ নির্বাচনের আগের বাকি কয়েক দিনে আরো আগাম ভোট পড়বে। জর্জিয়া, ভার্জিনিয়া, ওহাইয়ো ও নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে ১০ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও ভোটারদের ভোট দিতে দেখা গেছে। বেশির ভাগ আগাম ভোট পড়েছে টেক্সাস, ক্যালিফোর্নিয়া ও ফ্লোরিডায়। মার্কিন নির্বাচন প্রজেক্টের পরিচালক ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাইকেল ডোনাল্ড বলছেন, এবারের নির্বাচনে ৬৫ শতাংশ ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।
করোনা পরিস্থিতির চ্যালেঞ্জের মধ্যেও ভোটাররা লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিচ্ছেন অথবা ডাকযোগে। যুক্তরাষ্ট্রের ভোটের ইতিহাসে এই রেকর্ড আগাম ভোট কী বার্তা দিচ্ছে? ট্রাম্পকে হারাতে এই আগাম ভোট, নাকি তাকে পুনর্নির্বাচিত করতে? করোনার সংকট ও অর্থনৈতিক দুরবস্থা বিবেচনা করলে ভোট বাইডেনের পক্ষে পড়ার কথা। জরিপও বাইডেনের পক্ষে। তার পরও কেউই সুনির্দিষ্ট করে বলতে পারছেন না কে জিতবেন?
যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যমান সমস্যার মধ্যে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমেছে না বেড়েছে, সেই প্রশ্নের উত্তর নেই কারো কাছে। খোদ যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি আমেরিকানদের কাছে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা বেড়েছে অনেকাংশে। আগে কোনো রিপাবলিকান প্রার্থীর পক্ষে বাংলাদেশিদের জোরালো সমর্থন দিতে দেখা যায়নি, কিন্তু এবারের নির্বাচনে বাংলাদেশিরা ট্রাম্পের পক্ষে সভা-সমাবেশও করছেন। তাদের ভাষ্যমতে, ট্রাম্প নাগরিকদের দুর্দিনে আর্থিক সুবিধা দিচ্ছেন। আর বাইডেন আমেরিকায় আনডকুমেন্টেডদের বৈধতা দেবেন বলছেন। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট সমর্থকেরা বলছেন, বাংলাদেশিরা সব সময় ডেমোক্র্যাট সমর্থক। কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটরা বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অর্থনীতির জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।
রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের বাইরে সাধারণ আমেরিকানরা বলছেন, একসময় যে দেশের নির্বাচনব্যবস্থা বিশ্বে উদাহরণ ছিল, এখন বিশ্ববাসীর জন্য তা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনব্যবস্থাই এখন প্রশ্নবিদ্ধ।
২০১৬ সালের নির্বাচনের পর যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন ইমেজ সংকটে পড়েছে। ঐ নির্বাচনে ভোটের মাত্র দুই দিন আগে ডেমোক্রেটিক প্রার্থী হিলারির কথিত ইমেইল কেলেঙ্কারির ঘটনা সামনে আনা হয়েছিল। তখন ট্রাম্প ক্ষমতায় ছিলেন না। তাতেই সব ওলটপালট হয়ে গিয়েছিল। ৩ মিলিয়ন ভোট বেশি পেয়েও ইলেকটোরাল কলেজ ভোট সিস্টেমের কারণে প্রেসিডেন্ট হতে পারেননি হিলারি ক্লিনটন। আর এবার ট্রাম্প ক্ষমতায়। এবার নির্বাচনের আগে কোন অঘটন সামনে এসে দাঁড়ায় সেই আশঙ্কা তাড়া করছে ডেমোক্রেটিক শিবিরকে।
কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণও গুরুত্বপূর্ণ
৩ নভেম্বর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পাশাপাশি কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউজের ৪৩৫টি এবং উচ্চকক্ষ সিনেটের ৩৫টি আসনে ভোট হবে। ডেমোক্র্যাটরা আশা করছেন, তারা হাউজের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার পাশাপাশি সিনেটেরও নিয়ন্ত্রণ নেবেন। ফলে ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেও দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেক ক্ষেত্রেই বাধাগ্রস্ত হবেন। অন্যদিকে বাইডেন প্রেসিডেন্ট হলে যেকোনো আইন, সিদ্ধান্ত সহজেই পাশ করাতে পারবেন। আর সিনেটের নিয়ন্ত্রণ না পেলে ডেমোক্র্যাটদের অবস্থা তেমন একটা বদলাবে না। এ কারণে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হাউজ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ কাদের হাতে থাকবে, এটাও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।