রাজধানীর কাঁঠালবাগান বাজার এলাকা থেকে আশিক রহমান (১৭) নামের এক কিশোরের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কাঁঠালবাগান এলাকার ৭ ও ৮ নম্বর বাড়ির মাঝের স্থান থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, আশিকের বন্ধু বলিয়ম ও রেজোয়ান তাকে ছাদ থেকে ফেলে দিয়ে হত্যা করেছে। পুলিশ বলছে, নিহত আশিক রহমানও যাদের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ করা হচ্ছে, তারা সবাই মাদক সেবন ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। ভবন থেকে পড়ে আশিকের মৃত্যু হয়েছে, নাকি সে হত্যার শিকার হয়েছে সেটি এখনো নিশ্চিত নয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার বাড়াইলচড় গ্রামের কামাল মিয়ার ছেলে আশিক। পরিবারের সঙ্গে কাঁঠালবাগান লাকি হোটেল মোড়ে ভাড়া বাসায় থাকত। তিন ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট আশিক। তার বাবা চটপটি বিক্রি করেন।
আশিকের মা কল্পনা বেগম জানান, সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে একটা ফোন পেয়ে বাসা থেকে বের হয় আশিক। এরপর থেকে আর পাওয়া যাচ্ছিল না তাকে। মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে খবর পাই স্থানীয় হারুন-অর-রশিদের বাড়ি ও নির্মাণাধীন ভবনের মাঝখানে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে আশিক। তাত্ক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে গ্রিন রোডের একটি হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যায়। পরে পুলিশের নির্দেশে লাশ অ্যাম্বুলেন্সে করে আবারও ঘটনাস্থলে নেওয়া হয়।
আশিকের বড় ভাই সাগর আহমেদ জানান, ৮, কাঁঠালবাগান বাজার বাড়ির মালিক হারুন-অর-রশিদ। তার দুই ছেলে বলিয়ম ও রেজোয়ানদের সঙ্গেই ঘুরত সে। তারা মাদকাসক্ত। পুলিশ তাদেরকে কয়েকবার গ্রেফতার করেছিল। ওদের সঙ্গে আশিকও মাদক সেবন করত। প্রায় সময়ই ফোন দিয়ে ডেকে নিত তাকে। সোমবার সন্ধ্যায় ওরাই তাকে ডেকে নিয়ে গেছে। পরে কোনো কারণে ওরাই আশিককে হত্যা করে থাকতে পারে।
কলাবাগান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আসাদুজ্জামান জানান, আশিককে হত্যা করা হয়েছে নাকি সে ভবন থেকে পড়ে গেছে তা ময়নাতদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। তবে, পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশি তদন্ত চলছে। নিহতের স্বজনরা লাশ নিয়ে গ্রামের বাড়িতে গিয়েছেন। তারা ঢাকায় ফিরে মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন। তিনি জানান, সন্দেহভাজনদের ধরতে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চলছে।
তবে কলাবাগান থানার অপর একটি সূত্র জানায়, এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হারুন-অর-রশিদ এবং তার ছেলে বলিয়মকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে হারুনের অপর ছেলে রেজোয়ান পলাতক রয়েছেন।