বাংলাদেশ-ভারত ফ্লাইট চলাচল আবারও শুরু

প্রায় আট মাস বন্ধ থাকার পর আবারও শুরু হয়েছে বাংলাদেশ-ভারত ফ্লাইট চলাচল। ‘এয়ার বাবল’ ব্যবস্থার অধীনে গতকাল বুধবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইটের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম মফিদুর রহমান। সভাপতিত্ব করেন ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার ক্যাপ্টেন শিকদার মেজবাহউদ্দিন আহমেদ। উদ্বোধনী দিনে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস প্রথম ঢাকা ও কলকাতার মধ্যে ফ্লাইট পরিচালনা করে।

‘এয়ার বাবল’-এর অধীনে প্রতি সপ্তাহে বাংলাদেশ থেকে ২৮টি ফ্লাইট ভারতের তিনটি বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাত্রা করবে এবং ভারত থেকেও           সপ্তাহে ২৮টি ফ্লাইট ঢাকায় আসবে। শুরুতে কলকাতা, দিল্লি ও চেন্নাই—ভারতের এই তিন শহরে বিমান চলাচল করবে, আর বাংলাদেশের ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে ভ্রমণ করা যাবে। বাংলাদেশ থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস এবং নভো এয়ার যাত্রী পরিবহন করবে।

অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে যাত্রী নেবে ভারতের এয়ার ইন্ডিয়া, ইন্ডিগো, স্পাইসজেট, ভিস্তারা এবং গো এয়ার নামে পাঁচটি বিমান সংস্থা। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ফ্লাইটগুলো সরাসরি ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিমানবন্দর থেকে ভারতের নির্দিষ্ট বিমানবন্দরে যাবে এবং কোনো ধরনের ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করা হবে না।

যাত্রীদের যা করতে হবে

ভারতের সঙ্গে বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে যাত্রীদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যগত ও পদ্ধতিগত বেশ কিছু বিষয়ে নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ভারতে বিমানভ্রমণ করতে হলে যাত্রীকে ৭২ ঘণ্টা আগে সরকারনির্ধারিত পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে পিসিআর টেস্ট করাতে হবে। এছাড়া বিমানবন্দরের নিয়ম অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। বিমানবন্দরে এতদিন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার স্বার্থে যে ধরনের পদক্ষেপ মানা হতো, ভারতে ভ্রমণের ক্ষেত্রেও একই ধরনের নির্দেশনা মেনে চলা হবে।

স্বাস্থ্যবিধি মানা নিশ্চিত করতে বিমানবন্দরে নির্দিষ্ট জায়গায় স্যানিটাইজার ব্যবহার করা হচ্ছে, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ মাস্ক বিতরণ করছে, যাত্রীদের তাপমাত্রা পরীক্ষা করা হচ্ছে, যাত্রীদের চলাচল বা অবস্থানের জায়গায় সারা দিনে বেশ কয়েকবার জীবাণুনাশক দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি যেসব দেশে ভ্রমণের ক্ষেত্রে কোভিড পরীক্ষা বা স্বাস্থ্য পরীক্ষার সনদের প্রয়োজন হয়, সেসব সনদও যাচাই করে দেখে বিমানবন্দরের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।

বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ৯টি বিভাগে অনলাইনে ভারতীয় ভিসা দেওয়া হচ্ছে বলে এর আগে জানিয়েছিল ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশন। ভারত প্রথমে শর্ত দিয়েছিল, কোনো রোগীর ক্ষেত্রে এক জনের বেশি ‘অ্যাটেনডেন্ট’ যেতে পারবে না। কিন্তু পরে বাংলাদেশের আলোচনার প্রেক্ষাপটে এখন দুই বা তিন জন ‘অ্যাটেনডেন্ট’ যেতে পারবে বলে নিয়ম করা হয়েছে। শিগিগরই ট্যুরিস্ট ভিসা ইস্যু করা শুরু হবে বলে জানিয়েছেন হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী।