রূপালী ব্যাংকের কর্মকর্তা কর্মচারীদের আয়কর দেওয়া হয়েছে ব্যাংক তহবিল থেকে

সরকারি নির্দেশ লঙ্ঘন করে রূপালী ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আয়কর পরিশোধ করা হয়েছে ব্যাংকের তহবিল থেকে। এতে ব্যাংকটির আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ২ কোটি ৩২ লাখ ৬৮ হাজার ৫১ টাকা। এই টাকা সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে আদায়ের সুপারিশ করেছে জাতীয় সংসদের সরকারি হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। গতকাল বুধবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয়। তবে যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী ইতিমধ্যে মারা গেছেন তাদের বিষয়টি মানবিকভাবে বিবেচনা করে অর্থ আদায় মওকুফ করতে রূপালী ব্যাংকের পরিচালক পরিষদকে সুপারিশ করেছে কমিটি।

কমিটি সভাপতি রুস্তম আলী ফরাজীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটির সদস্য আব্দুস শহীদ, র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী, মনজুর হোসেন ও জাহিদুর রহমান অংশ নেন।

বৈঠকে সীমাতিরিক্ত চলতি মূলধন, সিসি হাইপো ?ঋণ বিতরণ, ডাউন পেমেন্ট ব্যতিরেকে পুনঃতপশিলিকরণ এবং মঞ্জুরি পত্রের শর্তানুযায়ী মেয়াদি ঋণ ও ফোর্সড লোন আদায়ে ব্যর্থ হওয়ায় ব্যাংকের যে ক্ষতি হয় তা আদায়ে তদারকি অব্যাহত রাখা সুপারিশ করা হয়। কমিটি রূপালী ব্যাংকের ক্রয়কৃত রপ্তানি বিল ও জামানতবিহীন ব্যাংক ওডি ?ঋণের মেয়াদোর্ত্তীণের দীর্ঘদিন পরও আদায় করতে না পারায় ব্যাংকের ২৬ কোটি ৫৮ লাখ ৬১ হাজার ৪৫৯ টাকা ক্ষতির অডিট আপত্তিটি নিষ্পত্তি করে। কমিটি সঠিক ঋণ গ্রহীতা নির্বাচন না করে টিওডি ঋণ বিতরণ করায় অনাদায়ী অর্থ কু-ঋণে পরিণত হওয়ায় ব্যাংকের ১৯৮ কোটি ৪৯ লাখ টাকা ক্ষতির অডিট আপত্তিও নিষ্পত্তি করে।

বৈঠকে গ্রাহকের পূর্বের দায়দেনার পরিস্থিতি সন্তোষজনক না হওয়া সত্ত্বেও পুনরায় চলতি মূলধন বৃদ্ধি, অনুমোদন ব্যতীত এলটিআর সৃষ্টি, বিএমআরইসহ অন্যান্য ঋণ সুবিধা প্রদান করায় ব্যাংকের ক্ষতি হওয়া ৪ হাজার কোটি ৮৭ লাখ টাকা ক্ষতির আপত্তি পুনঃতপশিলের জন্য সুপারিশ করা হয়।

কমিটি ঋণগ্রহীতা ও ব্যাংকের যোগসাজশে ডেইরি ফার্ম নির্মাণ না করে ঋণ উত্তোলন করে ঋণের অর্থ আত্মসাত্ করায় ব্যাংকের ৫৫ কোটি ২৩ লাখ টাকা ক্ষতির আপত্তির বিপরীতে গৃহীত পদক্ষেপ আগামী বৈঠকে উপস্থাপনের নির্দেশনা দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, ডেপুটি গভর্নর, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিবসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।