হাওরাঞ্চলে বিলুপ্তপ্রায় ধামাইল গান রক্ষা ও প্রসারের জন্য নেত্রকোনার খালিয়াজুরীতে একদল তরুণী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
উপজেলার নগর ইউনিয়নের তাতিয়া গ্রামের ওই তরুণীরা সম্প্রতি নিজেদের উদ্যোগে বিভিন্ন গ্রামে আয়োজন করছেন ধামাইল গানের আসর। ১৮ জন মিলে ‘মহুয়া ধামাইল দল’ নামে দলবদ্ধ হয়ে তারা তাদের আশপাশের গ্রামে বিভিন্ন অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে স্বেচ্ছাশ্রমে এ আসর বসান।
দলটির নেত্রী শেফালি সরকার জানান, হাওরাঞ্চলে ভৌগোলিক ও প্রাকৃতিকভাবে রয়েছে যেমন ভিন্নতা তেমনি রয়েছে আলাদা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। বিশেষ করে এই ঐতিহ্যের অন্যতম হলো ধামাইল গান। এই ধামাইল ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। তাই ঐতিহ্যের এই ধামাইল গানকে ঠিকিয়ে রাখতে আমরা ওই প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
আরো পড়ুন : পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবি (স.) কাল
সংস্কৃতির উৎকর্ষতার জন্য ধামাইল গানের বিকল্প নেই- এমন মন্তব্য করে খালিয়াজুরী উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক জহরলাল দেব রায় বলেন, ‘শত বছর পূর্বে ধামাইল গানের আবির্ভাব ঘটে। এ গানের প্রবর্তক লোকসংগীতের পুরোধা সাধক কবি রাধারমন দত্ত। এ গান সৃষ্টিতে অবশ্য অনেকেই অবদান রেখেছেন। ওই গান রচয়িতারা সবাই হাওরাঞ্চলের বাসিন্দা। তারা নিজেদের লোক-কৃষ্টিকে গানের মাধ্যমে সমৃদ্ধভাবে তোলেন। এখন প্রায় ধামাইল গান বিলুপ্ত হতে চলছে। হাওরাঞ্চলের বিয়ে, পূজা-পার্বনসহ প্রায় সব ধরনের অনুষ্ঠানের নান্দনিকতা বাড়িয়ে দেয়া এ গানের ছন্দ আর সুর ঠিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন সরকারি-বেসরকারি নানান পৃষ্ঠপোষকতা।
খালিয়াজুরী সদরের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব তারা প্রসন্ন দেব রায় ও তাতিয়া গ্রামের নিশিকান্ত সরকারসহ স্থানীয় অনেকেই দাবি জানিয়েছেন, হাওরাঞ্চলের বিলুপ্ত প্রায় ধামাইল, জারি, সারি, বাউল ও পালা গানসহ সব ধরনের লোকসংস্কৃতি রক্ষা ও প্রসারের স্বার্থে খালিয়াজুরীতে গড়ে তোলা হোক একটি ‘কালচারাল একাডেমি’।
খালিয়াজুরী উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ এইচ এম আরিফুল ইসলাম বলেন, এ কার্যক্রমকে উজ্জিবিত রাখতে প্রশাসনিকভাবে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হবে।
ইত্তেফাক/ইউবি