ডাক্তারখানায় গিট্টুকাণ্ড

:   হাড়ে ব্যথা হলে কি ডাক্তার দেখাতে হয়, জানিস গিট্টু?

:   না তো মামা। ভূতদের শরীরে তো হাড়ই নেই, তাই হাড় ব্যথাও নেই। তাই ডাক্তারও লাগে না।

:   ঠিক বলেছিস। ভূত হয়ে গেলেই ভালো হতো।

গিট্টু অবাক হয়। চান্দু মামাকে হতাশ লাগছে। চান্দু মামা খুবই হাসিখুশি মানুষ। সারাক্ষণ আনন্দে থাকেন। বই পড়ছেন, ফেসবুকে ট্রল কিংবা ইউটিউবে জটিল উচ্চাঙ্গ সংগীত শুনছেন। আবার অমর পালের ভোরের গান। সেই মানুষটার মনমরা ভাব দেখে খারাপ লাগে গিট্টুর।

: কী হয়েছে, বলেন তো মামা? গিট্টু সিরিয়াস।

: না রে, তেমন কিছু না। তোর মামীকে হাড়ে ব্যথার ডাক্তার দেখাতে হবে। ভালো ডাক্তার তো এমনিতেই কম। তারপর ডাক্তারকে সিরিয়াল দেওয়া আরো জটিল। সিরিয়াল দিতে পারলেও ডাক্তার দেখাতে গেলে আরো যন্ত্রণা। সন্ধ্যায় যাবি, ফিরতে ফিরতে রাত একটা। বিরক্তির একশেষ।

:   মামা, আপনার কথা শুনে আমার মনটা খারাপ হয়ে যাচ্ছে। আমি আছি কী জন্য? আপনি ডাক্তারের ঠিকানা দেন। কবে দেখাতে চান বলুন। আমি সব ব্যবস্থা করছি।

:   পারবি না রে গিট্টু। এসবে অনেক ঝামেলা।

:   আপনি একটা কাগজে লিখে দেন তো মামা, তারপর দেখেন কী হয়।

    গিট্টুর পীড়াপীড়িতে চান্দু মামা একটা কাগজে ডাক্তারের নাম, ঠিকানা আর লোকেশন লিখে দেন। অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই গিট্টু ডাক্তারের ঠিকানায় পৌঁছে যায়। গিট্টু অবাক হয়ে দেখে শ খানেক মানুষের লাইন। গিট্টু অদৃশ্য হয়ে একদম সামনে গিয়ে দাঁড়ায়, তারপর চান্দু মামীর নাম লেখা কাগজটা সিরিয়ালের টেবিলে রেখে দেয়। তারপর অদৃশ্য হয়েই দাঁড়িয়ে থাকে চুপচাপ। পেছনে বেশ ভালো ধাক্কাধাক্কি হচ্ছে। ভেতর থেকে একজন এসে বসে পড়ে টেবিলে।

: ভাই ধাক্কাধাক্কি করবেন না। আনমনে লোকটা গিট্টুর রাখা স্লিপটা হাতে নিয়ে প্রথমেই চান্দু মামীর নামটা লিখে ফেলে।

: ও ভাইজান, সিরিয়ালে প্রথম আমি আর আপনি নাম লিখলেন অন্যজনের। এটা কী হলো? সাথে সাথে গিট্টু দৃশ্যমান হয়ে যায়।

: কী বলছেন আঙ্কেল? আমি তো বাথরুমে ছিলাম।

: তা-ই না কি? তোমাকে আগে দেখিনি তো!

: ছিলাম তো। কাগজটা টেবিলে রেখে ওখানে বসেছিলাম।

: কী জানি বাপু।

: পরের জন নাম বলেন। সিরিয়াল লেখকের তাড়া। সিরিয়ালে একদম প্রথম নাম লিখিয়ে গিট্টু বাইরে বেরিয়ে আসে।

    বিকেলে চান্দু মামা মামীকে নিয়ে ডাক্তারের চেম্বারে আসেন। রোগী ঢুকছে একজন একজন করে, কিন্তু চান্দু মামীর নাম আর বলে না। গিট্টু অদৃশ্য হয়ে গিয়ে দেখে কাণ্ড অন্যরকম। সকালের লোকটা চুপি চুপি ভিজিটের অ্যাডভান্স টাকার সাথে বাড়তি টাকা নিয়ে সিরিয়াল ভেঙে লোক ঢুকাচ্ছে। গিট্টু লোকটার কানে মন্ত্র দেয়, ‘এঁই চাঁদু, ১ঁ নঁং সিঁরিয়াল থেঁকে ডাঁকতে শুঁরু কঁর। নাঁ হঁলে এঁক্ষুনি তোঁর ঘাঁড় মঁটকে দেঁবো। আঁর শুঁন, এঁরপঁর কোঁনো দিঁন আঁর এঁই কাঁণ্ড কঁরবি নাঁ। কঁরলে...’ গিট্টু তিনবার লাইনগুলো রিপিট করে। লোকটা মৃগী রোগীর মতো কাঁপতে কাঁপতে চান্দু মামীর নাম ধরে ডাক দেয়। মামা আর চান্দু মামী ডাক্তারের রুমে প্রবেশ করেন।