আমার লেখা

ছাগল, কুকুর আর নাগিন সাপ

এক গ্রামে ছিল একটি ছাগল। সে মাঠে ঘাস খাচ্ছে। তখনই দেখে কী—কিছু দূরে একটা কুকুর। ছাগলটা তো ভয়ে একদম কাঁপছে। কুকুরটা তখন ছাগলের কাছে এসে বলে, কী হে আমার ছাগল ভাই! ভালো আছো? না না, ভয় পাও কেন? আমি তো তোমার বন্ধু।

তারপর সে ছাগলের সাথে হ্যান্ডশেক-হেডশেক করে চলে যায়।

তার পরের দিন কুকুরের সাথে আবার দেখা হয় ছাগলের। তখন ছাগলটি বলল, কী কুকুর ভাই, কেমন আছো?

কুকুর বলে, ভালো। তা তুমি ভালো তো?

ছাগল কী যেন বলতে গেছে, তখনই সেখানে একটা নাগিন সাপ এসে বলল, কী! তোমরা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কী গল্প করছো?

তখন ওরা খুব ভয় পেয়েছে। তা দেখে নাগিন সাপ বলে, ভয় নেই। ভয় কিসের? আমরা তো বন্ধু।

তারপর সেই নাগিন সাপটা বলল, তোমরা শোনো, রাত ৩টায় যত যত পোকামাকড় আছে সব বেরিয়ে আসবে।

তারপর যখন রাত ৩টা বাজে, তখন সব পোকামাকড় চলে এল। তেলাপোকা, টিকটিকি , কাকলাস, গিরগিটি, ব্যাঙ, কাঁকড়া, মাকড়সা, ঘুগরো, ঝিঁঝিঁ, জোনাকি, পিঁপড়ে, মশা, ফড়িঙ, ডেয়ো, উইপোকা ও আরো অনেকে। তখন নাগিন সাপ বলল কী? বলল, আজকে আমরা পোকামাকড়দের দেশ বানাবো। তা শুনে সবাই খুব খুশি হলো। সবাই এই চিন্তা করছে—কোন দেশ বানাবো?

ওদের মধ্য থেকে একটা ব্যাঙ এগিয়ে এসে বলল, আমরা নতুন একটা মহাদেশ বানাবো আর সেখানে আরামে থাকব, কেউ আমাদের মারবে না।

তখন সব পোকামাকড় বলছে, আমাদের জন্য একটা আলাদা মহাদেশ বানালে খুবই ভালো হবে। বলেই সবাই নতুন মহাদেশে চলে যাওয়ার জন্য তৈরি হয়। তাদের জন্য গাড়ি, বাস, রেলগাড়ি, সিএনজি, ভ্যানগাড়ি, জাহাজ, ফেরি, নৌকা, টেম্পোগাড়ি ইত্যাদি সব এসেছে। নাগিন সাপও তাদের সাথে যাবে।

ছাগল আর কুকুর কিন্তু যাবে না, তারা এদেশেই থেকে যাবে।

বয়স :৭ (প্রায়), শিশুকলি নার্সারি স্কুল, বাঘারপাড়া, যশোর