নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা বাড়ছে। শুধু তাই নয়, নির্যাতিত হওয়ার পর একজন নারীর পক্ষে বেঁচে থাকাটা আরো বেশি কঠিন হয়ে পড়ছে। পরিবার, সমাজ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গণমাধ্যম-কর্মী ও সমাজকর্মীসহ বিভিন্ন জনের নানামুখী প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে তাদের জীবন হয়ে ওঠে আরো বেশি দুর্বিষহ। এ কারণেই শারীরিক নির্যাতনের পর মানসিক নির্যাতনের হাত থেকে রেহাই পেতে অনেককেই আমরা আত্মহননের পথ বেছে নিতে দেখি। এছাড়া নির্যাতিত নারীদের বেশিরভাগই মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্য হওয়ায় পুরো পরিবারটিই অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখেও পড়ে। উপার্জনশীল নারী নির্যাতিত হলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাদের রোজগার বন্ধ হয়ে যায়। এই অবস্থায় আইনজীবী নিয়োগ করে মামলা চালানো এবং একইসঙ্গে সংসার চালানো তাদের পক্ষে অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। অন্যদিকে নির্যাতকদের বেশিরভাগই প্রভাবশালী ও বিত্তশালী হওয়ায় আর্থিক দুর্বলতার কারণে নির্যাতিতদের পক্ষে তাদের সঙ্গে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। কাজেই নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো সামাজিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থার দ্বারা দ্রুততম সময়ের মধ্যে শতভাগ অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে এবং পাশাপাশি নির্যাতিতদের পাশেও দাঁড়াতে হবে। অর্থাত্ শক্তিশালী আইনি সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি তাদেরকে দিতে হবে পর্যাপ্ত আর্থিক সহায়তাও। নির্যাতিতরা যাতে আরো দুর্বল হয়ে না পড়ে সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি।
বিপ্লব বিশ্বাস
গোয়ালচামট, ফরিদপুর