সাংবাদিকতা আর দশটা পেশার মতো নয়। এটি চ্যালেঞ্জিং ও ঝুঁকিপূর্ণ পেশা। নারীদের মধ্যে যারা দীর্ঘদিন ধরে এই পেশায় আছেন তারা তাদের মেধা, দক্ষতা, যোগ্যতা, পেশাদারিত্ব এবং দায়িত্ববোধ নিয়েই টিকে আছেন। আমরা বলতে ভালোবাসি, গত ২০ বছরে গণমাধ্যমে নারীর উপস্থিতি বেড়েছে, সেই সঙ্গে বেড়েছে গণমাধ্যমের সংখ্যাও। তবে বাস্তবতা হলো—অন্য পেশায় নারীর সংখ্যা যতটা বেড়েছে, সে তুলনায় সাংবাদিকতায় নারীর উপস্থিতি তেমন বাড়েনি। গ্লোবাল মিডিয়া মনিটরিং প্রজেক্ট-২০১৫-এর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে সাংবাদিকতায় ৮৪ শতাংশ পুরুষ এবং ১৬ শতাংশ নারী। এর মধ্যে সংবাদপত্রে ৮ শতাংশ, টেলিভিশনে ১৯ শতাংশ এবং রেডিওতে ৩৩ শতাংশ নারী সাংবাদিক কাজ করেন। গতকাল ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আয়োজিত ‘নারী সাংবাদিকতার চ্যালেঞ্জ’ বিষয়ক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি-এর রজতজয়ন্তী উপলক্ষ্যে তিনদিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেন, এখনো সাংবাদিকতায় ভালোবাসা খুঁজে পাই বিধায়, ভার্চুয়ালি অংশ না নিয়ে সরাসরি এই সেমিনারে উপস্থিত হয়েছি। বিশেষ অতিথি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক কাবেরী গায়েন বলেন, প্রিন্ট মিডিয়ায় নারীর অংশগ্রহণ এখনো আশানুরূপ নয়।
বিষয়ের ওপর প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নিউজ টোয়েন্টিফোরের প্রধান বার্তা সম্পাদক শাহানাজ মুন্নী বলেন, গণমাধ্যমে নারীর সংখ্যা বাড়াতে হলে নিয়োগকর্তাদের মানসিকতার পরিবর্তন হওয়া দরকার। বক্তব্য রাখেন দৈনিক সমকালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মোস্তাফিজ শফি, দৈনিক আজকালের খবরের সম্পাদক ফারুক তালুকদার, সিনিয়র সাংবাদিক শাহানাজ বেগম, শারমিন রিনভি, নজরুল কবীর, আঙ্গুর নাহার মন্টি ও ফারজানা রূপা। সভাপতিত্ব করেন ডিআরইউয়ের সাবেক সভাপতি সাইফুল ইসলাম।