বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৩০০ এমএ নতুন একটি এক্স-রে মেশিন দেওয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হয়েছিল ২০০ এমএ মেশিন। তাও আবার পুরনো, বাক্স পানিতে ভিজে কুচকানো চেহারা, মেশিনের বডি মরিচা ধরা। তাই এলাকাবাসীর তোপের মুখে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মেশিনটি গ্রহণ না করে ফেরত পাঠাতে বাধ্য হয়েছেন। বুধবার দুপুরে একটি ট্রাকে করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কেন্দ ীয় ঔষধাগার (সিএমএসডি) থেকে ওই এক্সরে মেশিনটি পাঠানো হয়েছিল। এটির মূল্য ধরা হয়েছিল ৮ লাখ ৮৭ হাজার ৬৭২ টাকা।
জানা গেছে, ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে দেশের ৬৫টি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩০০ এমএ কোয়ালিটির এক্সরে মেশিন সরবরাহের জন্য টেন্ডার আহবান করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় ঔষধাগার (সিএমএসডি)। ‘আহমেদ এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান মেশিনগুলো সরবরাহ করে। শর্ত লঙ্ঘন করে ৩০০ এমএ কোয়ালিটির পরিবর্তে ২০০ এমএ মেশিন সরবরাহ করে তারা। একটি ট্রান্সপোর্ট এজেন্সির মাধ্যমে বুধবার বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মেশিন সরবরাহ করা হয়।
সংশ্লিষ্টরা বাউফল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে ট্রাক থেকে মেশিন নামিয়ে স্টোরে নেওয়ার সময় এলাকাবাসীর নজরে আসে এর বাক্স পানিতে ভেজা ও দেখতে নতুন নয়। এরপর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কয়েকজন কর্মচারী বাক্সটি খুলে দেখতে পান মেশিনের বডির যন্ত্রপাতিও পুরোনো এবং মরিচা ধরা। বহুদিনের প্রত্যাশার বিপরীতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি পুরোনো মেশিন গছিয়ে দেওয়ার বিষয়টি মুখে মুখে মুহূর্তেই প্রকাশ হয়ে যায়। ফলে এলাকায় ক্ষোভ তৈরি হয়। বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর তোপের মুখে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ওই মেশিন ফেরত পাঠাতে বাধ্য হন। ফেরত পাঠানো বিষয়ে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার সাহা বলেন, ‘চুক্তি অনুযায়ী ৩০০ এমএ এক্সরে মেশিন সরবরাহ না করায় আমরা তা ফেরত পাঠিয়েছি’।