ডোপ টেস্ট বা মাদক পরীক্ষার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ বিধিমালা প্রণয়ন করতে যাচ্ছে সরকার। ‘ডোপ টেস্ট বিধিমালা, ২০২০’ নামে এই বিধিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ কথা জানানো হয়েছে। বৈঠকে কমিটির সদস্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও অংশ নেন।
ইতিমধ্যে পুলিশ সদস্যদের ডোপ টেস্ট শুরু করায় বৈঠকে পুলিশ প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানায় সংসদীয় কমিটি। বৈঠকে উচ্চতর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির আগে এবং চূড়ান্ত পরীক্ষায় অবতীর্ণ হওয়ার আগে ডোপ টেস্ট বা বিশেষ স্বাস্থ্য পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করার সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া দেশের সব গাড়িচালককে ডোপ টেস্টের আওতায় আনারও সুপারিশ করেছে কমিটি।
সরকারি চাকরিতে ঢোকার আগে প্রার্থীদেরও ডোপ টেস্ট বা মাদক পরীক্ষা করতে হবে। পরীক্ষায় যার ফলাফল নেতিবাচক হবে, তিনি চাকরির জন্য অযোগ্য বিবেচিত হবেন। জানা গেছে, পুলিশ, জনপ্রশাসন, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কমচারীদের কেউ কেউ মাদক সেবন করেন—এমন অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় ২০১৮ সালের মে মাসে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মাদক পরীক্ষা চালুর সিদ্ধান্ত নেয়। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে জনপ্রশাসন ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠিও পাঠানো হয়।
সংসদীয় কমিটির বৈঠকে আলোচনা হয়, দেশে মাদকাসক্ত ব্যক্তির সংখ্যা বাড়ছে। বিভিন্ন উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছেন। পেশাজীবীদের মধ্যেও মাদক ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়ছে। প্রাতিষ্ঠানিক কাজের সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষায় ডোপ টেস্টের বিষয়টি বাধ্যতামূলক করার পক্ষে মত দেয় কমিটি। কমিটির সভাপতি শামসুল হক টুকুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছাড়াও কমিটির সদস্য আফছারুল আমীন, হাবিবর রহমান, সামছুল আলম দুদু, কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, পীর ফজলুর রহমান, নূর মোহাম্মদ ও সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ অংশ নেন।
বৈঠক শেষে কমিটির সদস্য পীর ফজলুর রহমান ইত্তেফাককে জানান, পুলিশ প্রশাসনহ কিছু ক্ষেত্রে বিচ্ছিন্নভাবে বর্তমানে ডোপ টেস্ট করা হচ্ছে। সমন্বয়ের মাধ্যমে এবং সমাজে, বিশেষ করে যুবসমাজকে রক্ষায় এটির একটি পূর্ণাঙ্গ বিধিমালা করার জন্য কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিধিমালা তৈরির কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। তিনি জানান, সিলেটে পুলিশের হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনায় এসআই আকবরকে এখনো গ্রেপ্তার করতে না পারায় বৈঠকে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে নানা ধরনের অঘটন ঘটানোর বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে কমিটি সুপারিশ করেছে।
১০ নভেম্বর থেকে সব জেলায় ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম চালু :
আগামী ১০ নভেম্বর থেকে দেশের ৬৪টি জেলায় ই-পাসপোর্ট (ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট) কার্যক্রম চালু হতে যাচ্ছে। গতকালের বৈঠকে পাসপোর্ট অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে এ কথা জানানো হয়। বর্তমানে ৪৭টি জেলায় এই সেবা রয়েছে। বৈঠকে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের সার্বিক কার্যক্রমের ওপর একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। পরে প্রতিবেদনের ওপর আলোচনা করেন কমিটির সদস্যরা। এছাড়া বিদেশে বাংলাদেশ মিশনসমূহে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের বিদ্যমান বিধিমালা অনুযায়ী পদায়নের সুপারিশ করেছে কমিটি। এ বিষয়ে কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অদক্ষ কর্মচারীদের দায়িত্ব দেওয়ায় বিদেশে মিশনসমূহে পাসপোর্ট কার্যক্রমে প্রবাসীরা হয়রানির শিকার হন। সেজন্য পাসপোর্ট অধিদপ্তরের অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের এ কাজে বিদেশে মিশনসমূহে নিয়োগ দেওয়া উচিত।
কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ
গতকালের বৈঠকে চলমান মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখাসহ দেশে কিশোর অপরাধ বৃদ্ধি পাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। কথিত কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণসহ তাদের সংশোধনের জন্য পদক্ষেপ নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে তাগিদ দেয় কমিটি।