আইন সংশোধন করে বলাত্কারকে ‘ধর্ষণ’ হিসেবে গণ্য করতে একটি মানবাধিকার সংগঠনের পক্ষ থেকে সরকারকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের ৯ ধারায় এ সংশোধন আনতে সরকারকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, দণ্ডবিধির ৩৭৫ ধারায় বলাত্কারের শাস্তি যাবজ্জীবন দণ্ডের কথা উল্লেখ রয়েছে। যাবজ্জীবন শাস্তির বিধান থাকলেও একে ‘ধর্ষণ’ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে না। অথচ এটা সরাসরি ধর্ষণের পর্যায়ে পড়ে। যুক্তরাজ্যসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে একে ধর্ষণ হিসেবে গণ্য করে বিচার করা হয়। এ কারণে বাংলাদেশেও আইনে সংশোধনী এনে এ ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করার আবেদন জানানো হয়েছে। নোটিশপ্রাপ্তির পাঁচ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে আবেদন জানানো হয়েছে। অন্যথায় হাইকোর্টে রিট করা হবে বলে জানিয়েছেন ব্যারিস্টার হুমায়ুন কবির পল্লব।
গতকাল বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্রসচিব, আইনসচিব, শিক্ষাসচিব, ধর্মসচিব, আলিয়া মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর ডাকযোগে ও ইমেইলে এ নোটিশ পাঠানো হয়েছে। ল অ্যান্ড লাইফ নামের ঐ মানবাধিকার সংগঠনের পক্ষে আইনজীবী মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির পল্লব ও মোহাম্মদ কাওছার এ নোটিশ পাঠিয়েছেন।
ব্যারিস্টার পল্লব বলেন, দণ্ডবিধিতে বলাত্কারে যে বিধান তা অন্যান্য আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারায় বলাত্কারকে বলা হয়েছে ‘আন ন্যাচারাল অফেন্স’ বা অস্বাভাবিক অপরাধ। ফলে এটিকে অন্যান্য অস্বাভাবিক অপরাধের মতোই দেখা হচ্ছে। অথচ আমাদের দেশে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অহরহ বলাত্কারের ঘটনা ঘটছে। সাম্প্রতিক সময়ে এ ঘটনা আরো বেড়ে গেছে। এখনই এই অপরাধের নাগাল টেনে না ধরলে ভবিষ্যতে তা ব্যাপক আকার ধারণ করতে পারে।