স্বামী-স্ত্রী-সন্তানকে হত্যা করে ঘরের পাশেই মাটিচাপা!

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে বাবা-মা ও এক সন্তানকে হত্যা করে বাড়ির পাশেই মাটিচাপা দেওয়া হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ঘরের পাশের মাটি খুঁড়ে তাদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতরা হলেন আসাদ (৫০), তার স্ত্রী পারভীন (৪২) ও ছোট ছেলে লিয়ন (১২)। বুধবার গভীর রাতে কটিয়াদীর জামসাইদ গ্রামে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ ধারণা করছে। এ ঘটনায় পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহত আসাদের মা, বোন, ভাগ্নেসহ পাঁচ জনকে আটক করেছে।

কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মাশরুর খালেদ বলেন, নিহত আসাদ স্থানীয় বাজারে দোকানদারি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। যৌথ এই পরিবারে তার বড় ছেলে তোফাজ্জল ঢাকায় ও দ্বিতীয় ছেলে মোফাজ্জল নানার বাড়িতে থাকে। বুধবার রাতে ঢাকা থেকে মোবাইল ফোনে তোফাজ্জল তার বাবার সঙ্গে কথা বলে। বৃহস্পতিবার সকালের পর থেকে তার বাবার মোবাইল বন্ধ পায়। এতে সন্দেহ হলে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে কটিয়াদীতে যায় তোফাজ্জল। বাসায় খোঁজ-খবর নেওয়ার পর দেখতে পায় যে তার বাবা-মা ও ছোট ভাই নিখোঁজ। বাড়ির অন্যান্য আত্মীয়স্বজন তাদের ব্যাপারে কিছুই বলতে পারেনি।

পুলিশ সুপার আরো বলেন, তোফাজ্জল বিষয়টি স্থানীয় ইউপি মেম্বারকে জানায়। ইউপি মেম্বারসহ সে কটিয়াদী থানায় উপস্থিত হয়ে একটি জিডি করে। পরে পুলিশ তোফাজ্জলকে সঙ্গে নিয়ে জামসাইদের বাড়িতে যায়। পুলিশ বাড়ি তল্লাশি করার সময় দরজার সামনে সামান্য রক্তের দাগ দেখতে পায়। পরে ঘরের আশের খালি জায়গাগুলো তল্লাশি করতে গিয়ে দেখে যে ঘরের ঠিক পেছনে যেখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলা হয়, সেখানে নতুন মাটি খুঁড়ে রাখা হয়েছে। পুলিশ মাটি খুঁড়তে গিয়ে প্রথমেই একটি হাত বেরিয়ে আসে। লিয়ন নামে তাদের ১২ বছর বয়সের সন্তানের হাত। এরপর একে একে তিনটি লাশ বের করা হয়। লাশগুলো একটির ওপর আরেকটি রেখে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছিল। প্রতিটি লাশের মাথায় ভারী কিছুর আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। লাশের শরীরে রক্তভেজা মাটি থাকার কারণে আঘাতের চিহ্ন শনাক্ত করা যায়নি। তবে লাশগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যার আধুনিক হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

কিশোরগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার আরো বলেন, কী কারণে তাদের হত্যা করা হয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি। তবে আটককৃতদের এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।