নূরুল ইসলাম আকন্দ, সহকারী অধ্যাপক
জয়পুরহাট গার্লস ক্যাডেট কলেজ, ঢাকা
রসায়নের ভয় করতে হবে জয়
প্রিয় এইচএসসি পরীক্ষার্থীবৃন্দ সবাইকে শুভেচ্ছা। করোনার কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও ২০২১ সালের এইচএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। এক্ষেত্রে রসায়ন বিষয় নিয়ে অধিকাংশের মধ্যেই ভীতি কাজ করে থাকে। কী রকম হবে প্রশ্ন? কেমন হবে পরীক্ষা? কেমন নম্বর পাব? রসায়নে এ প্লাস পাব তো? ইত্যাদি। আজ আমি এ বিষয়েই কিছু কথা বলব। রসায়ন বিষয়টি দেখতে যেমন দূবোর্ধ্য, আসলে নম্বর প্রাপ্তির ক্ষেত্রে এতটা দূবোর্ধ্য নয়। আর সৃজনশীল প্রশ্নের ক্ষেত্রে রসায়নে বিষয়বস্তুগুলো কিছু বুঝাতে পারলেই ৭০% নম্বর পাওয়া যায়। কীভাবে এই বিষয়ে সহজে জিপি-৫ বা লেটার গ্রেড এ প্লাস পাওয়া যায় তার একটি বিশ্লেষণ দেখানো হলো। একটি সৃজনশীল প্রশ্নে ৪(চার)টি প্রশ্ন থাকে এর মধ্যে জ্ঞানমূলক, অনুধাবনমূলক, প্রয়োগমূলক ও উচ্চতর দক্ষতামূলক প্রশ্নগুলো সবার পরিচিত।
উপরোক্ত বিশ্লেষণ থেকে এটা স্পষ্ট যে, একটি সৃজনশীল প্রশ্নের ১০ নম্বরের মধ্যে স্মরণ রাখা বা জ্ঞানমূলকের জন্য ৪টি প্রশ্ন ১ করে ৪, অনুধাবন তিনটি প্রশ্নে প্রতিটিতে ১ করে ৩। প্রয়োগমূলকের জন্য ২টি প্রশ্নে ২ এবং উচ্চতর দক্ষতার জন্য ১ বরাদ্দ। অর্থাত্ রসায়নে প্রয়োগ ও উচ্চতর দক্ষতা কম থাকলেও শুধু বিষয়বস্তু চিহ্নিত করে বুঝিয়ে দিতে পারলে ১০ এর মধ্যে ৭ পাওয়া সম্ভব। এভাবে ৫টি সৃজনশীল প্রশ্নে ৭ করে পেলে মোট ৩৫ নম্বর অতি সহজে অর্জন করা যায়।
এভাবে যদি আমরা হিসেব করি যে, একজন শিক্ষার্থী সৃজনশীল অংশের সকল প্রশ্নে অনুধাবনমূলক প্রশ্নোত্তরের জন্য ৩৫ পায় এবং প্রয়োগ ও অনুধাবনের বরাদ্দ মোট ১৫ নম্বর হতে ৩ (তিন) নম্বর পায় তবে তার সৃজনশীল অংশে মোট ৩৮ নম্বর দাড়ায়। অন্য দিকে এমসিকিউ অংশেও ৭০% প্রশ্ন জ্ঞান ও অনুধাবন দক্ষতা সমন্বয়ে করা হয়। ধরে নিলাম একজন সাধারণ মানের শিক্ষার্থী যিনি শুধু অনুধাবন দক্ষতা অর্জন করেছে তবে সেই শিক্ষার্থী এমসিকিউ পরীক্ষায় ১৮ পাওয়ার কথা। যদি ব্যবহারিক পরীক্ষায় ২৫ নম্বর অর্জন করতে পারে তবে পরীক্ষার্থী (৩৮+১৮+২৫)=৮১ নম্বর পেয়ে এ প্লাস পাবে। এটাই প্রত্যাশা।
এখন প্রশ্ন হলো কীভাবে উত্তর করলে এমন ফলাফল অর্জন করা যাবে? এটা বিবেচ্য বিষয় যে, একটি সৃজনশীল প্রশ্নের ৪টি সহপ্রশ্ন( ক, খ,গ,ঘ) ভিন্ন ভিন্ন শিখনফল বিবেচনায় যুক্ত করা হয় এবং এই শিখনফলগুলো প্রতিটি ভিন্ন বিষয়বস্তুকে কেন্দ্র করে হয়ে থাকে। শিক্ষার্থীরা যদি বিষয়বস্তুটি চিহ্নিত করতে পারে তবে প্রতি প্রশ্নে ৪ নম্বর (ক-১, খ-১, গ-১, ঘ-১) পাওয়া নিশ্চিত হয়। আর যদি বিষয়গুলো একটি ব্যাখ্যা দিয়ে বুঝিয়ে দিয়ে আসতে পারে তবে ৩ (খ-১, গ-১, ঘ-১) নম্বর নিশ্চিত হবে। এভাবেই প্রতি প্রশ্নে ৪+৩=৭ করে মোট ৭x৫=৩৫ নম্বর পাওয়া যাবে।
এবারের পরীক্ষার জন্য আমার পরামর্শ হলো পরীক্ষার্থীরা রসায়ন বইয়ের অধ্যায়ভিত্তিক বিষয়বস্তুগুলোর তালিকা তৈরি করে তিন প্রশ্নের মাধ্যমে উত্তর দেওয়ার দক্ষতা অর্জন করবে। প্রশ্ন তিনটি হলো, কাকে বলে, কী, কেন? কিভাবে? যেমন-
হাইড্রোজেন বন্ধন কী?
ফ্রী র্যাডিক্যালমূলক/ মুক্তমূলক কীভাবে তৈরি করা হয়?
ক্লোরাইড মূলককে অনুবন্ধী ক্ষারক বলা হয় কেন?
এ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইড পানিতে কম দ্রবণীয় কেন?
এখানে হাইড্রোজেন বন্ধন, মুক্তমূলক, অনুবন্ধী অম্ল/ক্ষারক এবং সবশেষে আয়নিক যৌগ পানিতে কম দ্রবণীয়তার ক্ষেত্রে বিষয়বস্তু পোলারায়ন/কাজানে সূত্র।
আশা করি এইভাবে রসায়ন বিষয়কে রিভিশন দিলে ফলাফল অবশ্যই ভাল হবে। আর যে সকল শিক্ষার্থী খুব বেশি ভীতির মধ্যে আছে তারা এ পদ্ধতি অনুসরণ করলে খারাপ ফলাফল করবে না বলে আশা করি।
তবে বাকী দিনগুলো শুধুই পড়াশোনার মধ্যে কাটাতে হবে। এই দিনগুলো কষ্ট করলে ভবিষ্যত দিনগুলো সোনার আলোয় ঝলমলে হবে। মনে রাখতে হবে এইচএসসি পরীক্ষা হলো কর্ম জীবনের প্রবেশ দ্বার। সময়ের সর্বোচ্চ সঠিক ব্যবহার অধ্যবসায়, শৃঙ্খলাবোধ, প্রয়োজনীয় খাবার খাওয়া এবং প্রয়োজনমতো ঘুম মস্তিষ্ককে সতেজ রাখতে সহায়তা করবে। ফলে লেখাপড়া ফলপ্রসু হবে।
আসছে এইচএসসি পরীক্ষা সকল পরীক্ষার্থীর জন্য জীবনে সফল হবার অন্যতম দৃষ্টান্ত হউক এই কামনায় শেষ করছি।