করোনায় টংগীবাড়ির ঘরের হাটে ঘর বিক্রিতে ধস নেমেছে। মাসের পর মাস ধরে অবিক্রীত পড়ে আছে নান্দনিক ঘরগুলো। উপজেলার আজিমপুরা, পাইকপাড়া, বেতকা, রান্ধুনীবাড়ি, বেশনাল এলাকায় নকশা খচিত দোচালা, তিন চালা, চার চালা, সাত চালা নতুন ঘরগুলো ঠায় দাঁড়িয়ে আছে। বার্মার কাঠ আমদানি বন্ধ হওয়ায় বর্তমানে নাইজারিয়ান লোহাকাঠই এখন ভরসা ঘরের হাটের ব্যবসায়ীদের।
হাট ঘুরে জানা যায়, নকশা ভেদে এসব ঘরের দাম দুই থেকে ১৫ লাখ পর্যন্ত। একটি রেডিমেড ঘর বাড়িতে নিয়ে স্থাপন করতে তিন/চার দিন সময় লাগে।এতো টাকা দিয়ে টিনের ঘর কেন এমন প্রশ্নের জবাবে ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলী বলেন, মূলত এই এলাকার মানুষের টিনের নকশা করা ঘরের প্রতি একটা আলাদা টান আছে। তাছাড়া এই এলাকা নদী ভাঙন প্রবণ। তাই দালানের পরিবর্তে টিনের ঘর অপেক্ষাকৃত বেশি পছন্দের। এটা পরে বিক্রিও করা যায়। একটি পুরাতন টিনের ঘর বিক্রি করলে দামও পাওয়া যায় ভাল।
আজিমপুরার ব্যবসায়ী শামীম জানান, সাত চালা আই-আঠাশ টপ বারিন্দা (সাড়ে ২৮ বর্গ হাত) একটি ঘর যা জাপানি ‘অরিজিনাল প্লেন শিট’ ও এক আইচ লোহা কাঠ দিয়ে তৈরি ঘর চার থেকে সাড়ে চার লাখ টাকায় বিক্রি হয়। তবে দুই লাখ টাকায়ও খুব সুন্দর নকশা করা ঘর পাওয়া যাবে। আর পনের লাখ টাকায় ঘর বানাতে চাইলে আগে অর্ডার দিতে হবে। সেই ঘর সাইজে বড় হবে। পুরোটা হবে সূক্ষ্ম নকশা করা লোহা কাঠের। ঘরের ভেতর থাকবে কেবিন।
পাইকপাড়া ও হাতিমারা কাঠের ঘর ব্যবসায়ী রাসেল জানান, করোনার পর থেকে আমাদের দুর্বিষহ জীবন যাপন চলছে। ১৫-২০ জন মিস্ত্রির পরিবর্তে ৪-৫ জন রেখেছি। ঘর বিক্রি হচ্ছে না। কর্মচারীদের বেতন, জায়গা ভাড়া, সংসার চালানো এখন দুরূহ হয়ে পড়েছে।
১২ বছরের বেশি সময় ধরে ঘর তৈরির কাজ করা মিস্ত্রী সুধাংশু মণ্ডল, রাজন চন্দ্র মণ্ডল, সঞ্জিত মণ্ডল জানান, ২৩ বন্দের (মানে সাড়ে ৮ হাত বাই ১৫ হাত) একটি নকশা করা ঘর তৈরিতে ৯০ দিন সময় লাগে। সাধারণত তিনজন মিস্ত্রী মিলে এক মাসে একটি ঘর তৈরি করতে পারে। নকশা ও কাঠ ভেদে একটি ঘর দুই থেকে চার লাখ টাকায় বিক্রি হয়। তবে আমরা মিস্ত্রিরা প্রতিদিন ছয়শ টাকা মজুরি ও সঙ্গে খাবার পাই। কেউ নিজে টিন, কাঠ কিনে বাড়িতে ঘর তৈরি করতে চাইলে আমরা মজুরি নিই ৩৫-৪০ হাজার টাকা।
আজিমপুরার ঘরের হাটের ব্যবসায়ী শামীম হোসেন জানান, আমরা চট্টগ্রাম থেকে কাঠ নিয়ে আসি। বাচালু, নাইজিরা, শাল, সেগুন, ওকান ও লোহা কাঠ দিয়ে ঘর বানানো হয়। বছরে প্রায় ২০-২২টি ঘর বিক্রি হয়।
বেতকার ঘর ব্যবসায়ী জালাল মোল্লা বলেন, আগের মতো আর ব্যবসা হয়না। অনেক পুঁজি লাগে। কাঠ, টিন কিছুর দাম বেড়েছে। কিন্তু, সেই হারে ঘরের দাম বাড়ে নাই। গত তিন মাসে দুটি ঘর বিক্রি করছি। অথচ বৈশাখ জ্যৈষ্ঠ এই দুই মাস ঘর বিক্রির মৌসুম।
ইত্তেফাক/এসি