নাট্যব্যক্তিত্ব ফেরদৌসী মজুমদার। সম্প্রতি দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা স্বাধীনতা পদক তুলে দেওয়া হয়েছে তার হাতে। সেই মুহূর্তের অনুভূতির ব্যাখ্যা, দেশের টিভি নাটক ও মঞ্চনাটকের অবস্থা নিয়ে কথা বললেন বিনোদন প্রতিদিনের সঙ্গে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন মোস্তাফিজ মিঠু
দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা স্বাধীনতা পুরস্কার হাতে পেলেন। এই অর্জনের মুহূর্তটির ব্যাখ্যা আপনার কাছ থেকে শুরুতে জানতে চাই—
অবশ্যই এটি অত্যন্ত আনন্দের একটি সংবাদ। কিন্তু যতটা আনন্দিত হওয়ার কথা ছিল ততটা আনন্দ কিন্তু পাইনি। আনন্দ অর্ধেক হয়ে গেছে। ফেব্রুয়ারিতে এই পুরস্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে দেশে করোনার প্রভাবে সবকিছু স্তব্ধ হয়ে যায়। কাছের অনেক মানুষ আমাদের মাঝে নেই। এই অর্জনের অংশীদার তো আমি একা নই। আমার আশেপাশের মানুষগুলোও। সেই মানুষগুলোর কেউ যখন না থাকে তখন অর্জনের আনন্দ তো পুরোটা থাকে না। এরমধ্যে করোনার জন্য পুরস্কারটি প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকেও নেওয়া হলো না। তিনি ভিডিও কনফারেন্সে ছিলেন। সবকিছু মিলিয়ে রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা পাওয়ার পর যে আনন্দ থাকার কথা ছিল, তা নেই।
পুরস্কার তুলে দেওয়ার এই আয়োজনে সময়সীমা বাড়ানোর প্রয়োজন ছিল মনে করেন?
তেমন কিছুও না আসলে। তাহলে হয়তো আমাকে মরণোত্তর পুরস্কার দেওয়া লাগতো। ঘোষণার পর একজন মারাও গেছেন। আসলে আমি কখন চলে যাবো তাও তো জানি না। সময়সীমা বাড়ানো নিয়ে আমি কথা বলছি না। এখন সময় আমাদের এই পরিস্থিতে দাঁড় করিয়েছে। মনে হলো সবকিছুর জন্য নিয়ম পালন করতে হচ্ছে।
দেশের টিভি নাটকের বিভিন্ন সময় আপনি দেখেছেন। এখনকার পরিবর্তনটা কীভাবে দেখেন?
কাজের অবস্থার পরিবর্তনটা ভালোভাবে দেখি। আমরা যে পরিস্থিতি থেকে কাজ করতাম সেটি এখন নেই। এখন কাজের সুযোগ যেমন তৈরি হয়েছে তেমনি নারীদের অভিনয় করার প্রতিবন্ধকতা অনেকটা দূর হয়েছে।
কিন্তু শিল্পমান নিয়ে অনেক প্রশ্ন ওঠে। এই বিষয়ে কী বলবেন?
ভালো পাণ্ডুলিপির অভাব। যত ভালো অভিনয়শিল্পী হোক পাণ্ডুলিপি ভালো না হলে ভালো কোনো কাজ তৈরি হবে না। সেই অভাবের কারণে শিল্পমান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এখন একজনই সব করতে চান। কিন্তু সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না, সেটিও বুঝতে হবে।
মঞ্চের অবস্থা নিয়ে কী বলবেন?
মঞ্চের অবস্থা অনেক ভালো। অনেক উন্নতি হয়েছে। দলে সংখ্যা বেড়েছে। কিন্তু এখানেও কিন্তু পাণ্ডুলিপির সংকট রয়েছে। তবে কম।