২০০২ সালের কথা। ফাল্গুনী তখন দ্বিতীয় শ্রেণির ছোট্ট উচ্ছল বালিকা। পাশের বাড়ির ছাদে খেলার সময় বিদ্যুত্স্পৃষ্ট হয়ে তার দুই হাতের কনুই পর্যন্ত পুড়ে যায় ভয়ানকভাবে। কনুই থেকে কেটে ফেলা হলো তার দুটি হাত। হাত দুটি কেটে বাদ দেওয়ার পর কলম দেখলেই মনটা কেমন করে উঠত ছোট্ট ফাল্গুনীর। প্রখর মেধার সঙ্গে টইটম্বুর আত্মশক্তিতে ফাল্গুনী কলম তুলে নেন কাটা হাতে। ফাল্গুনী পঞ্চম শ্রেণিতে বৃত্তি পান, এসএসসি ও এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়ে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন। তারপর ভর্তি হন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগে এবং কৃতিত্বের সঙ্গে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। ফাল্গুনী আমাদের বুঝিয়ে দেন এ জগতে অসম্ভব বলে কিছু নেই। আর চলার পথে যদি কেউ না থাকে, তবে দরকার হলে একলাই চলবেন ফাল্গুনী।