সব নাগরিকই দেশের মালিক বৈষম্য প্রশমন জরুরি

১৫ অক্টোবর ২০২০ তারিখে লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবাইকে স্মরণ করিয়ে দেন : ‘যারা তৃণমূলে পড়ে আছে তারা এদেশের মালিক’। অর্থাত্ যারা শিক্ষাদীক্ষায়, ক্ষমতায়-দাপটে, অর্থবিত্তে আজ ভরপুর তারাই শুধু নয়, দেশের সব নাগরিক এদেশের মালিক। ব্যক্তি পর্যায়ে প্রত্যেকের মালিকানা সমান। তৃণমূলে যারা পড়ে আছেন তারা এবং যে কোনো ‘ক্ষমতার’ চেয়ারে বসা ব্যক্তি বা বিশাল সম্পদের মালিক সবাই এদেশের সমপর্যায়ের মালিক।

তিনি বঙ্গবন্ধুর উদ্ধৃতি দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর বক্তব্যের প্রতিধ্বনি করেছেন। বঙ্গবন্ধু যা বলেছিলেন তা সংক্ষেপে বললে এরকম দাঁড়ায় : যারা চেয়ারে বসে ‘সাহেব’ হয়েছেন তারা যে বেতনভাতা পান, যা দ্বারা তাদের জীবিকা চলে, তা আসে সাধারণ মানুষের করের টাকা থেকে। এই সাধারণ মানুষ দেশের মালিক। তাদেরকে সম্মান করে কথা বলতে ‘সাহেবদেরকে’ তিনি বলেছিলেন।

বিষয়টি বাংলাদেশের সংবিধানে বিধৃত আছে। দেশের সম-মালিক ছাড়াও মানুষ হিসেবে সবাই সমান। তৃণমূলে পড়ে থাকা দরিদ্র ও নিঃস্বসহ প্রত্যেকেরই সকল মানবাধিকার ও মানব-মর্যাদা প্রাপ্য।

বিশ্বের দেশে দেশে এবং বিশ্ব পরিমণ্ডলে অর্থনীতি পরিচালিত হচ্ছে অবারিত বাজার ব্যবস্থা—নৈব্য উদারতাবাদের আওতায়। এই ব্যবস্থায় যাদের সম্পদ ও বাজারক্ষমতা বেশি তারই অর্থনৈতিক অগ্রগতির সিংহভাগের মালিক হন। তাই বিশ্বে আজ অভূতপূর্ব সম্পদ সৃষ্টি এবং প্রযুক্তির অভূতপূর্ব উত্কর্ষ সাধিত হওয়া সত্ত্বেও অভূতপূর্ব বৈষম্য বিরাজ করছে। দেখা যায়, বিশ্ব জনসংখ্যার ১ শতাংশ অতি ধনীর দখলে বিশ্বের অর্ধেক সম্পদ এবং বাকি অর্ধেক অন্য ৯৯ শতাংশের হাতে যায়। এই ৯৯ শতাংশের মধ্যেও ব্যাপক আর্থসামাজিক শ্রেণি বিভাজন রয়েছে। এদের মধ্যে অতিদরিদ্র, দরিদ্র ও স্বল্প আয়ের মানুষের আধিক্য লক্ষণীয়। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী ২০১৭ সালে বিশ্বে অতি দারিদ্র্যের হার (দৈনিক মাথাপিছু আয় পিপিপি ১ ডলার ৯০ সেন্ট থেকে কম), বিশ্ব জনসংখ্যার ৯ দশমিক ২ শতাংশ এবং বিশ্ব দারিদ্র্যের হার (দৈনিক মাথাপিছু আয় পিপিপি তিন ডলার ২০ সেন্টের কম) ২৪ শতাংশ। আরো অনেকের অবস্থান দারিদ্র্যসীমার ওপরে হলেও তারা স্বল্প আয়ের মানুষ এবং তাদের পারিবারিক অর্থনীতি ঝুঁকিতে রয়েছে। জাতিসংঘ খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO)-এর তথ্য অনুযায়ী ২০১৯ সালে বিশ্বে ৬৯০ মিলিয়ন মানুষ ক্ষুধার্ত ছিলেন—তারা পর্যাপ্ত খাদ্য অথবা পুষ্টিকর খাদ্য সংগ্রহ করতে পারেননি। এই অবস্থা বিরাজ করছে এমন এক সময়ে, যখন বিশ্বে উত্পাদিত খাদ্য সুবণ্টিত হলে বিশ্ববাসী প্রত্যেকের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত হতে পারত। উপর্যুক্ত সব তথ্য করোনা পূর্বকালের।

বাংলাদেশে বিগত একদশকে উল্লেখযোগ্য আর্থসামাজিক অগ্রগতি হয়েছে। প্রবৃদ্ধি বেশ কয়েক বছর ৬ শতাংশের ওপর থেকে ৭ শতাংশ ছাড়িয়ে যায় এবং ২০১৮-১৯ সালে ৮ দশমিক ২০ শতাংশ অর্জিত হয়। ২০০৫ সালে দারিদ্র্যের হার ৪০ শতাংশ ছিল, ২০১৯ সালে তা ২০ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে আসে এবং অতি দারিদ্র্যের হার ২০০৫ সালে ২৫ শতাংশ থেকে ২০১৯ সালে নেমে আসে ১১-১২ শতাংশ। উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি। সামাজিক বিভিন্ন সূচকেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয় এই সময়ে।

ইন্টারন্যশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বিশ্ব ক্ষুধা সূচকের মান বাংলাদেশে ২০০৬ সালে ২৯ থেকে ২০২০ সালে (করোনার প্রাদুর্ভাবের আগে) ২০ দশমিক ৪-এ নেমে এসেছে। এই সূচক তৈরিতে ব্যবহার করা হয় জনসংখ্যার মধ্যে গড় পুষ্টিহীনতা এবং পাঁচ বছর কম বয়সি শিশুদের মধ্যে মৃত্যুর হার ও পুষ্টিহীনতার কারণে তাদের মধ্যে কৃশকায়ী ও খর্বাকৃতদের হার। সূচকের মান কমে এসেছে মানে বাংলাদেশে ক্ষুধা-পুষ্টিহীনতা নিবারণে অনেক অগ্রগতি হয়েছে। তবে এই সূচকের মান ২০-এর বেশি হলে পুষ্টিহীনতার বাস্তবতা যথেষ্ট খারাপ বলে বিবেচনা করা হয়।

করোনা প্রাদুর্ভাবের অভিঘাত সারা বিশ্বে বেড়েছে, বাড়ছে জীবন-জীবিকা উভয় ক্ষেত্রে। যারা বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন তারা সব দেশেই আর্থসামাজিকভাবে দুর্বল ও দুর্দশাগ্রস্ত জনগোষ্ঠীসমূহ। অতিদরিদ্র, দরিদ্র, ক্ষুধার্ত, এমনকি নিঃস্ব হওয়া মানুষের সংখ্যা বেড়েছে, বাড়ছে। বৈষম্যও দ্রুত বাড়ছে। বস্তুত করোনার অভিঘাত থেকে উত্তরণ প্রক্রিয়ায়ও বৈষম্য বাড়ছে বলে প্রাপ্ত তথ্য থেকে দেখা যায়, কেননা দুর্বলরা সঞ্চয় নিঃশেষ করে এবং বেকারত্বে পড়ে আরো দুর্বল হয়েছেন এবং সে অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রক্রিয়ায়ও সংকটে আছেন। সরকারি প্রণোদনা তাদের কাছে কম পৌঁছে অথবা পৌঁছে না। কিন্তু কিছুটা ধাক্কা খেলেও ধনীরা দ্রুতই স্বমহিমায় ফিরে আসছেন আর করোনা-পরবর্তী সময়ে তাদের অবস্থান আরো শক্তিশালী হবে বলে অনেকে মনে করেন। অর্থবিত্তে, বাজারক্ষমতায়, অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ক্ষমতায়ও। দারিদ্র্য, ক্ষুধা ও বৈষম্যের ক্ষেত্রে অবস্থার ব্যাপক অবনতি হওয়ায় দেশে দেশে টেকসই উন্নয়ন কর্মসূচির সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যমাত্রাসমূহের অর্জন আরো ঝুঁকিপূর্ণ হচ্ছে।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো করোনা মহামারির কারণে বাংলাদেশও অতিদারিদ্র্য, দারিদ্র্য, ক্ষুধা (পুষ্টিহীনতা, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের মধ্যে) ও বৈষম্য বাড়ছে। যদিও অনেক দেশ থেকে বাংলাদেশ প্রবৃদ্ধি অর্জনে এগিয়ে আছে। দেশে দেশে যেখানে নানা মাত্রায় অর্থনৈতিক সংকোচন বা নামমাত্র সম্প্রসারণ হচ্ছে সেখানে বাংলাদেশ ৫ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি করেছে ২০১৯-২০ সালে। কৃষি খুব ভালো করেছে করোনাকালেও। বর্তমানে রপ্তানি ঘুরে দাঁড়াচ্ছে, রেমিট্যান্স আসছে আগের চেয়েও বেশি। অর্থাত্ অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। তার পরও লক্ষণীয় অসংখ্য মানুষ করোনার কারণে নতুনভাবে দারিদ্র্যের কবলে পড়েছেন। যারা দরিদ্র এবং অতিদরিদ্র ছিলেন তারা আরো দুর্ভোগে নিপতিত হয়েছেন। বিভিন্ন গবেষণায় দারিদ্র্য বৃদ্ধির বিভিন্ন প্রক্কালন দেখা যায় করোনা পূর্বকালে সাড়ে তিন-চার কোটি দরিদ্র মানুষের সঙ্গে দারিদ্র্যে যুক্ত হয়েছেন আরো অসংখ্য মানুষ (সম্ভবত আরো দুই-আড়াই কোটি)। পুনরুদ্ধার-পুনর্জাগরণ প্রক্রিয়াও দুর্দশাগ্রস্ত এসব মানুষ পিছিয়ে পড়ছেন, কেননা তাদের সম্বল আগে থেকে আরো কমে গেছে এবং সরকারি প্রণোদনাও তাদের কাছে সামান্যই যাচ্ছে বা মোটেই যাচ্ছে না। বৈষম্য তাই দ্রুত বাড়ছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তৃণমূলের সব পিছিয়ে থাকা, পিছিয়ে পড়া, পিছিয়ে রাখা জীবনযুদ্ধে জর্জরিত মানুষের কথাই বলেছেন, যারা অন্য সবার সঙ্গে দেশের সম-মালিকানার অধিকারী। বাংলাদেশের কথা বলতে গিয়ে তিনি ওপরে উল্লিখিত বিশ্বের অগণিত বঞ্চিত অবহেলিত বিধ্বস্ত মানুষের কথাও বললেন। সবাই নিজ নিজ দেশের অন্য সবার সঙ্গে সম-মালিক। আর বাংলাদেশ এবং পৃথিবীর সর্বত্রই সব মানুষ, মানুষ হিসেবে সমান। সবার মানবাধিকার ও মানব মর্যাদা প্রাপ্য। বিশ্বের ভাগ্যাহত কোটি কোটি মানুষ যাতে মর্যাদার জীবনযাপন করতে পারে তার নিশ্চয়তা বিধান করার দায়িত্ব তাদের ওপরই বর্তায়, যারা দেশের সব মানুষের পক্ষে দেশ পরিচালনা করেন। এই পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উল্লিখিত বক্তব্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এতে বঙ্গবন্ধুর সেই বিখ্যাত উক্তির অনুরণন লক্ষণীয় :‘পৃথিবী দুই ভাগে বিভক্ত। একদিকে শোষক, অন্যদিকে শোষিত মানুষ। আমি শোষিতের পক্ষে’।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও টেকসই উন্নয়নের মূল তাগিদের ভিত্তিতে সাধারণত কথা বলেন। তার উপর্যুক্ত বক্তব্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। তিনি দারিদ্র্য, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। যাদের ঘর নেই তাদের ঘর দেওয়ার কার্যক্রম গ্রহণ করেছেন এবং এ বছর সেই লক্ষ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ জোরদার করা হয়েছে। তিনি এদেশে ‘অসাম্প্রদায়িক প্রগতিশীল উদার গণতান্ত্রিক কল্যাণ রাষ্ট্র; প্রতিষ্ঠা করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। দেশের প্রত্যেক নাগরিককে অন্তর্ভুক্ত করে টেকসই উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে কার্যক্রম অব্যাহত আছে। লক্ষণীয়, বাংলাদেশ এগিয়ে চলছে এবং এগিয়ে চলার পথে গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের অঙ্গীকার করা হয়েছে ২০১৮ সালের আওয়ামী লীগের নির্বাচনি ইশতেহারে যাতে এগিয়ে চলা সুসংহত ও দ্রুততর করা যায়। এগুলো এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকারের মধ্যে রয়েছে :দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা; বৈষম্য দূর করা; সামাজিক ব্যাধি যথা মাদকসেবন এবং নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতন-ধর্ষণ (সম্প্রতি ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করা হয়েছে) উচ্ছেদকরণ; ব্যাংক ও পুঁজিবাজারে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা; গ্রাম উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া ‘আমার গ্রাম আমার শহর’ স্লোগান সামনে রেখে; খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষি উন্নয়ন এবং সেই লক্ষ্যে কৃষির যান্ত্রিকীকরণ; মানসম্পন্ন শিক্ষা সম্প্রসারণ; তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত সম্প্রসারণ; বেকারত্ব প্রশমন; যুবসমাজকে যথোপযুক্ত কাজে লাগানো এবং এক্ষেত্রে যে স্লোগান গ্রহণ করা হয়েছে, তা হচ্ছে ‘তারুণ্যের শক্তি বাংলাদেশের সমৃদ্ধি’; ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এবং সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করে এগিয়ে চলা।

মোটা দাগের এই প্রতিশ্রুতিগুলো জনকল্যাণকামী নেতৃত্বের পরিচায়ক হিসেবে বিবেচিত হওয়ার দাবি রাখে। শেখ হাসিনার নেতৃত্ব তাই আদর্শিকভাবে কল্যাণকামী। প্রতিশ্রুতিগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন জাতিকে লক্ষ্যভুক্ত সব সুফল এনে দিতে পারে।

এই সরকারের আমলে বাংলাদেশে উন্নয়ন দর্শন এবং অনেক নীতি ও কর্মসূচিও উপর্যুক্ত সেই আঙ্গিকে রচিত। তবে সব কর্মসূচি প্রণয়ন বা পুনর্গঠন এবং বাস্তবায়নে দেশের বিভিন্ন আর্থসামাজিক পর্যায়ের সব মালিকদের যথাযথ অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করলেই সর্বজনীন টেকসই উন্নয়ন ধারায় দ্রুত এগিয়ে চলা সম্ভব হবে। এই অগ্রযাত্রায় দেশের সব মালিক যথাযথ মর্যাদা ভোগ করবেন। পরিকল্পনা প্রণয়ন, কৌশল নির্ধারণ ও কর্মসূচিসমূহ বাস্তবায়নে নিয়োজিত যাদের মধ্যে ঘাটতি রয়েছে তাদের মননে যেন দেশের সবার সম-মালিকানা এবং মানব মর্যাদা প্রাপ্যতার তাগিদ প্রোথিত হয় এবং তারা যেন সেই মতে নিজেদের দায়িত্ব সততার সঙ্গে পালন করেন এবং উপর্যুক্ত অঙ্গীকারগুলো যেন সামনে রাখেন। ব্যবসায়-বাণিজ্য এবং অন্যান্য কর্মকাণ্ডে মানবিকতার কোনো ঘাটতি যেন না থাকে সেদিকে সংশ্লিষ্ট সবার নজর দেওয়া প্রয়োজন। সব খাতে শ্রমিকদের জন্য যথাযথ সুযোগসুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।

করোনাকাল থেকে উত্তরণে করোনা-পূর্বকালের স্বাভাবিক অবস্থা আবার ফিরে আসবে না। সারা বিশ্বেই একটি ‘নতুন স্বাভাবিক’ প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশেও তেমনটি হবে। ‘নতুন স্বাভাবিক’-এ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড, স্বাস্থ্যসেবা, চলাফেরা, উত্পাদন, ব্যবসায়-বাণিজ্যসহ সব ক্ষেত্রে পরিবর্তিত বাস্তবতায় নতুন আঙ্গিক, ব্যবস্থা, কর্মপরিচালনা ও বাস্তবায়ন পদ্ধতির প্রয়োজন হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্মরণ করিয়ে দেওয়া দেশের সর্বজনীন সম-মালিকানার তাগিদকে ধারণ করে কি ‘নতুন স্বাভাবিক’ রচিত হবে? সেরকমটি ঘটলেই সবাই মিলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সোনার বাংলা গড়ে তোলা সম্ভব হবে। কিন্তু সন্দেহ রয়েছে, আদৌ কি তা ঘটবে? আদৌ কি লোভ-লালসা-দম্ভের অনুসারী যারা, তারা সংকীর্ণতা ও অমানবিকতার ঊর্ধ্বে উঠে মানবতার সৌরভে আলোকিত হয়ে সবার সঙ্গে মিলে সেই পথ রচনা এবং লক্ষ্য অর্জনে ব্রতী হবেন? তবে এই লেখা শেষ করতে চাই আশাবাদ ব্যক্ত করে—জননেত্রী হিসেবে শেখ হাসিনার ভাবমূর্তির ওপর ভরসা রেখে।

n লেখক :অর্থনীতিবিদ ও সমাজচিন্তক