বেশি দামে খুশি কৃষক
স্টাফ রিপোর্টার, রংপুর
রংপুরের আট উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে স্বল্পমেয়াদি (মঙ্গা তাড়ানো) বিড়ি-৩৩ ও বিনা-৭ এবং পারিজাসহ বিভিন্ন হাইব্রিড জাতের আমন ধান কাটা শুরু হয়েছে। বন্যা ও প্রতিকূল পরিবেশ উপেক্ষা করে আগাম সোনালি ধান গোলায় তুলতে পেরে এবং ভালো ফলন ও দাম পেয়ে কৃষকেরা বেজায় খুশি।
কাউনিয়া উপজেলার নাজিরদহ গ্রামের কৃষক আজাহার আলী জানান, স্বল্পমেয়াদি আগাম ধান কাটার পর ঐ জমিতে আগাম আলু, ভুট্টাসহ বিভিন্ন ফসল চাষাবাদ করে কৃষকেরা লাভবান হচ্ছেন। ফলে তারা স্বল্পমেয়াদি ধান চাষে ঝুঁকছেন। আরাজি হরিশ্বর গ্রামের মমিনুল ইসলাম এবার ৫০ শতক জমিতে পারিজা ধান চাষ করে ফলন পেয়েছেন ২০ মণ। খোর্দ্দভুতছাড়া গ্রামের আ. হামিদ ২৫ শতক জমিতে বিনা ৭ জাতের ধান চাষ করে ফলন পেয়েছেন ১২ মণ। আর আগাম ধান গোলায় ওঠাতে পেরে তারা খুব খুশি।
কাউনিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. সাইফুল আলম জানান, কয়েক দফা বন্যা ও অতিবৃষ্টিতে কৃষকদের কিছুটা ক্ষতি হলেও আগাম জাতের ধানের ভালো ফলন হয়েছে এবং দাম ভালো থাকায় কৃষকেরা বেশ খুশি। চলতি মৌসুমে ধানের খরের বেশি দাম পেয়েছেন কৃষক। স্বল্পমেয়াদি ধান শস্য বহুমুখীকরণে সহযোগিতা করে। চলতি মৌসুমে উপজেলায় উফশী ও হাইব্রিড জাতের আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১১ হাজার ৫০০ হেক্টর; চাষ হয়েছে ১১ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে ১ হাজার ৩৮৪ হেক্টর জমিতে আগাম জাতের উফশী ও হাইব্রিড ধান লাগানো হয়েছে। আগাম জাতগুলোর মধ্যে ১৫৩ হেক্টর ব্রিধান-৩৩, ৬২৫ হেক্টর পারিজা ও ২৯৫ হেক্টর বিনা-৭ জাত এবং হাইব্রিড ৩২১ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে।
রংপুর কৃষি অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মো. সরোয়ারুল হক জানান, আশ্বিন-কার্তিক মাসে কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট স্বল্পমেয়াদি জাতের ধান চাষে চাষিদের উদ্বুদ্ধ করে। এতে করে এই ধান চাষে কৃষকদের মধ্যে আগ্রহ বাড়ে। বিশেষ করে ব্রি-৩৩, ৩৯, ৪৯, ৭১, ৭৫, ৮৭ ও ৬২ এবং হিরা-৩, এরাইজ গোল্ড, বিনা-৭, পারিজাসহ বিভিন্ন হাইব্রিড জাতের ধান চাষ করে কৃষকেরা ভালো ফলনও পেয়েছেন।