প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনি ফল মানবেন কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু বলেননি। তাই এ নিয়ে আলোচনা চলছে। জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির সাংবিধানিক আইনের অধ্যাপক জনাথন টার্লির মতে, এটা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওপর নির্ভর করে না। তিনি হেরেছেন বলে তাকে সন্তুষ্ট করতে হবে এমন নিয়ম নেই। দায়িত্ব গ্রহণের দিন নতুন প্রেসিডেন্ট থাকবেন সিক্রেট সার্ভিসের অধীনে। উত্তরসূরির শপথ অনুষ্ঠানে ট্রাম্প অতিথি হিসেবে অংশ নেবেন। তিনি থাকলে অস্বাগত অতিথি হিসেবেই থাকবেন। আর দায়িত্ব ছাড়তে অস্বীকৃতি জানালে তিনি হবেন গ্রেফতারকৃত অতিথি। অধ্যাপক জনাথন টার্লি বলেন, যে কোনো প্রার্থীর প্রচারণা টিম ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে। ৪৩টি অঙ্গরাজ্যে ফলাফল পুনর্গণনার অনুমতি আছে। তবে এদের মধ্যে কিছু রাজ্যে আবার ভোটের ব্যবধানটা দেখা হয়। ফেডারেল নির্বাচন কমিশনারের তথ্যানুসারে, একটি রাজ্য ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত ফলাফল জমা দিতে পারে। ১৪ ডিসেম্বর রাজ্যের ইলেক্টররা একত্র হন এবং তাদের ভোট দেন। ৬ জানুয়ারি কংগ্রেস তাদের ভোটদানকে বৈধতা দেয়।
করোনা মহামারির কারণে ডাকযোগে ভোটদান বেড়েছে। ফলে ‘নির্বাচনের দিন’ ‘নির্বাচনি সপ্তাহ’তে রূপান্তরিত হতে পারে। এবারের সার্বিক পরিস্থিতিতে একটা খারাপ কিছু ঘটার আশঙ্কা করছেন ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটির সাংবিধানিক আইনের অধ্যাপক এডওয়ার্ড ফোলিও। তিনি ১৮৭৬ সালের উদাহরণ দিয়ে বলেন, ঐ বছর শপথ গ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগেও জয়-পরাজয়ের সিদ্ধান্ত আসেনি। কারণ রুথারফোর্ড বি হেইজ ও স্যামুয়েল টিলডেনের কেউই সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট পাননি। তিনটি রাজ্যের ভোটে সন্দেহ ছিল।
ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদ ও রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত সিনেটের কেউই সিদ্ধান্তে আসতে পারছিল না। এরপর কংগ্রেসে একটি কমিশন গঠন করে। এর সদস্য ছিলেন প্রতিনিধি পরিষদ, সিনেট ও বিচারপতিদের পাঁচজন করে। তারা শেষ পর্যন্ত হেইজকে বিজয়ী ঘোষণা করেন। যদিও হেইজকে বিরোধীদের সঙ্গে কিছু বিষয়ে সমঝোতা করতে হয়। শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্তও গড়াতে পারে। ২০০০ সালে জর্জ ডব্লিউ বুশ এবং আল গোরের ক্ষেত্রেও হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত আল গোর অসন্তুষ্ট হলেও আদালতের রায় মেনে নিয়েছিলেন।
আইন বিশেষজ্ঞ ও ম্যাসাচুসেটসসের অ্যামহার্স্ট কলেজের অধ্যাপক লরেন্স ডগলাসের মতে, এক দেশে তিন প্রেসিডেন্ট হতে পারেন? সংবিধান অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কে জিতেছেন তা স্পষ্ট না হলে কংগ্রেসের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত পেসিডেন্ট হবেন। প্রধান বিচারপতি হয়তো ন্যান্সি পেলোসিকে শপথ গ্রহণ করাবেন। আবার আরেক বিচারপতি ক্ল্যারেন্স টমাস শপথ গ্রহণ করাবেন ট্রাম্পকে। এমনও হতে পারে যে কেউই শপথ নিলেন না এবং ট্রাম্প, বাইডেন ও পেলোসি সবাই প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব ও অধিকার দাবি করতে পারেন।
ডগলাস লিখেছেন, এর মধ্যে ট্রাম্প হয়তো এমন সব টুইট করবেন, যা সহিংসতা উসকে দিতে পারে। মনে রাখতে হবে, এদেশে প্রচুর বন্দুক আছে এবং এর অধিকাংশই ট্রাম্পের সবচেয়ে উগ্র সমর্থকদের হাতে।
n ইলেক্টোরাল ভোট সমান হলে যা নিয়ম
যুক্তরাষ্ট্রে ১৮০০ সালে এমন ঘটনা ঘটেছিল। কংগ্রেস তখন থমাস জেফারসনকে প্রেসিডেন্ট পদে ও এরোন বারকে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত করে জটিলতার নিরসন করেছিল। দুই জনই যদি ২৬৯টি করে ভোট পান, তাহলে ভাগ্য নির্ধারণ করবে আগামী কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ। এখানে আছেন ৪৩৫ জন সদস্য। এই ভোটে প্রতিনিধি পরিষদের একটি করে ভোট নয়, প্রত্যেক রাজ্যে দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অনুযায়ী একটি করে ভোট। এমন ভোটে প্রতিনিধি পরিষদের প্রতিজন সদস্যের একটি করে ভোট নয়, প্রত্যেক রাজ্যে পার্টির সংখ্যাগরিষ্ঠতা অনুযায়ী একটি করে ভোট। ধরা যাক, মিশিগানে ডেমোক্র্যাটদের পাঁচ জন প্রতিনিধি আছেন এবং রিপাবলিকানদের আছেন এক জন। সেক্ষেত্রে তা ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে যাবে। এই পরিস্থিতিতে ভাইস প্রেসিডেন্ট মনোনীত করবে কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেট। প্রেসিডেন্ট এক দলের এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট অন্য দলেরও হতে পারেন। কংগ্রেসে সমাধান না হলে প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে থাকবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট। আর উভয় কক্ষ যদি কাউকেই নির্বাচিত না করতে পারে, তাহলে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করবেন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার।
n ষড়যন্ত্রতত্ত্ব
প্রচারাভিযানে বড় ইস্যুগুলো অবশ্যই করোনা ভাইরাস মহামারি, সুপ্রিম কোর্ট ও পুলিশি ব্যবস্থার সংস্কার। কিন্তু এর বাইরে আরো বিচিত্র ও উদ্ভট বিষয়ে আলোচনা চলছে। ব্যাপারটা ছড়াচ্ছে ইনস্টাগ্রামের মতো সামাজিক মাধ্যমে। এটি একটি ষড়যন্ত্রতত্ত্ব, যাকে বলা হয় কিউঅ্যানন। মূলকথা : ট্রাম্প এক গোপন যুদ্ধ চালাচ্ছেন। যুদ্ধটা মার্কিন সরকার, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সংবাদমাধ্যম জগতের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা কিছু লোকের বিরুদ্ধে। এই লোকেরা এলিট শ্রেণির। তারা শয়তানের উপাসক এবং পিডোফাইল, অর্থাত্ শিশুকামী—এটাই মূল গল্প। তবে এর বহু শাখা-প্রশাখা রয়েছে। এসব উদ্ভট গল্পে বিশ্বাস করে হাজার হাজার লোক। তারা মনে করে, একদিন হিলারি ক্লিনটনের মতো কিছু বিখ্যাত লোককে এসব অভিযোগে গ্রেফতার করে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে।
..... এক নজরে মার্কিন নির্বাচন .....
ভোট হবে ৫০টি রাজ্য ও এক ফেডারেল ডিস্ট্রিক্টে
ভোটগ্রহণ সকাল ৬টা থেকে রাত ৯টা
ভোটার প্রায় ২১ কোটি
g রিপাবলিকান পার্টি : প্রতীক হাতি। রক্ষণশীল দলটি গ্র্যান্ড ওল্ড পার্টি (জিওপি) নামেও পরিচিত।
g ডেমোক্র্যাট পার্টি : প্রতীক গাঁধা। উদারনৈতিক দল।
g অন্যান্য নামেমাত্র রাজনৈতিক দল : লিবার্টারিয়ান, গ্রিন ও ইনডিপেনডেন্ট পার্টি।
g ইলেক্টোরাল ভোট : ৫৩৮টি। জয়ের জন্য দরকার ২৭০ বা এর বেশি।
g অন্যান্য পদেও ভোট : প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি এবং ৩৩টি সিনেট আসনে।
g ফলাফল : সাধারণত নির্বাচনের পরের দিনই স্পষ্ট হয়। কিন্তু এবার দেরি হওয়ার আশঙ্কা।
g প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচন : ১৪ ডিসেম্বর ইলেক্টরদের ভোট।
g পরবর্তী প্রেসিডেন্টের নাম ঘোষণা : ২ জানুয়ারি ২০২১।
g দায়িত্বভার গ্রহণ :২০ জানুয়ারি।
g নির্বাচনে খরচ : দুই দলের খরচ ১৪ বিলিয়ন ডলার (এক লাখ ১৮ হাজার ৮০৬ কোটি ১৭ লাখ টাকা)।
g অন্যান্য প্রার্থী :ব্রক পিয়ার্স, মার্ক চার্লস ও জেড সিমন্স।
g বিদেশিরা কাকে চায় : চীন ও ইরান চায় বাইডেনকে এবং রাশিয়া ট্রাম্পকে।
০