করোনার মহামারির গত সাড়ে সাত মাসে ঢাকা চিড়িয়াখানায় নতুন অতিথি এসেছে ১১৫টি। মানুষের আনাগোনা না থাকায় আর কেউ বিরক্ত না করায় প্রজনন প্রক্রিয়া ছিল আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় অনেক ভালো। প্রাণীগুলোও আগের চেয়ে অনেক স্বাস্থ্যবান হয়েছে। এই সময়ে রোগবালাই একেবারেই ছিল না বললেই চলে।
ঢাকা চিড়িয়াখানার কিউরেটর ডা. আবদুল লতিফ ইত্তেফাককে বলেন, দীর্ঘদিন পর রবিবারই প্রথম চিড়িয়াখানা খোলা হয়েছে। আগে থেকেই বলা ছিল দুই হাজারের বেশি দর্শনার্থী ঢুকতে পারবেন না। কিন্তু মানুষের আগ্রহের কারণে সেই বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হয়। প্রথম দিনই ১১ হাজার ৮০২ জন দর্শনার্থী এসেছেন। কিন্তু মানুষের মধ্যে সচেতনতা ছিল কম। ফলে অনেক জায়গায়ই স্বাস্থ্যবিধি মানা সম্ভব হয়নি। তবে আমরা মাস্ক ছাড়া কাউকে ভেতরে ঢোকার অনুমতি দিচ্ছি না। তার পরও ভেতরে ঢুকে অনেকেই মাস্ক খুলে ফেলছেন। এক জায়গায় অনেকে জড়ো হচ্ছেন।
জানা গেছে, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে প্রতি মাসের প্রথম রবিবার বিনা টিকিটে ভেতরে ঢোকার অনুমতি দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। সেই কারণে খোলার প্রথম দিন কাউকে টিকিট কাটতে হয়নি। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে গত ২০ মার্চ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল এই চিড়িয়াখানা। কিউরেটর জানান, করোনার মধ্যে আমাদের এখানে ১১৫টি নতুন অতিথি এসেছে। ময়ূরের ঘরে এসেছে ১৮টি অতিথি, হরিণেরও বাচ্চা হয়েছে ১৮টি। এছাড়া জলহস্তী, জিরাফ, গাধাসহ বিভিন্ন ধরনের প্রাণী একটি করে বাচ্চা দিয়েছে।
মানুষের আনাগোনা বাড়ায় আবার কি প্রজনন ক্ষমতা কমে যেতে পারে? জবাবে কিউরেটর বলেন, আজ আমি নিজে বিভিন্ন খাঁচার সামনে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে পর্যবেক্ষণ করেছি। সেখানে আমার মনে হয়েছে, ওরা খুশিই হয়েছে। তবে দর্শনার্থীদের সচেতন হওয়া দরকার। তিনি জানান, নতুন নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত যত দর্শনার্থী আসবেন, ষাটোর্ধ্ব ছাড়া সবাই ঢুকতে পারবেন। এদিকে দীর্ঘ বিরতির পর চিড়িয়াখানা খুলে দেওয়ায় উচ্ছ্বসিত ছিলেন দর্শনার্থীরা। তবে স্বস্তির পাশাপাশি শঙ্কার কথাও জানিয়েছেন কেউ কেউ। মিরপুরের শেওড়াপাড়ার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, করোনার কারণে বাচ্চাগুলো ঘরে থাকতে থাকতে বিরক্ত হয়ে গেছে। এ কারণেই আসা। আফরোজা আক্তার নামে আরেকজন বললেন, দর্শনার্থী সীমিত থাকলেই ভালো হতো, কারণ সময়টা তো ভালো না।