হঠাত্ বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী

হঠাত্ করেই দেশে বাড়তে শুরু করেছে ডেঙ্গু রোগী। করোনা লকডাউনের সময়ও ডেঙ্গু রোগ নিয়ন্ত্রণে ছিল। কিন্তু গত তিন মাসে হঠাত্ করেই বাড়তে শুরু করেছে ডেঙ্গু রোগী। গত ১ সপ্তাহে ৬৯ জন এ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৫ জন। জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুর মৌসুম হলেও জুন-জুলাই মাসে কম ছিল ডেঙ্গু রোগী। কিন্তু আগস্ট-সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে রোগীর সংখ্যা ব্যাপক হারে বেড়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশনস সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, ডেঙ্গু রোগী জুনে ছিল ২০ জন, জুলাইয়ে ২৩ জন। কিন্তু আগস্টে রোগীর সংখ্যা বেড়ে ৬৮ জনে দাঁড়ায়। তবে সেপ্টেম্বরে আবার তা কমে ৪৭ তে নেমেছে। কিন্তু কেবল অক্টোবর মাসেই ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৬৩ জন। আর গতকাল নভেম্বরের প্রথম দিনেই ১৫ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু সন্দেহে মৃত্যু হয়েছে ৪ জনের। জানুয়ারি থেকে গতকাল পর্যন্ত দেশে ৬৪২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

করোনা শুরু হওয়ার আগে দেশে সবচেয়ে আতঙ্কের বিষয় ছিল ডেঙ্গু। ২০১৯ সালে প্রায় সারা দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন ১ লাখ ১ হাজার ৩৫৪ জন। এরপর রাজধানী ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন মশক দমনে কর্মসূচি হাতে নেয়। তবে মাঝে কিছু দিন ডেঙ্গু রোগী কম থাকায় মশক দমনে দুই সিটির তত্পরতায় ভাটা পড়ে। কিন্তু ডেঙ্গু রোগী হঠাত্ বেড়ে যাওয়ায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন আজ সোমবার থেকে বিভিন্ন এলাকায় মশক দমনে চিরুনি অভিযান শুরু করবে। অন্যদিকে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনও উড়ন্ত মশা দমনে এসিআই ফর্মুলেশন লিমিটেডের কাছ থেকে ১ লাখ লিটার ওষুধ সংগ্রহ করেছে।

তবে মশক দমনে সাময়িক স্প্রে অথবা লার্ভা ধ্বংসের অভিযানের চেয়ে সারা বছর পরিকল্পনা অনুযায়ী কমিটি করে কার্যক্রম চালানোকে গুরুত্ব দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এ বিষয়ে কীটতত্ত্ববিদ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক কবিরুল বাশার বলেন, হঠাত্ হঠাত্ অভিযান আর লার্ভা ধ্বংসে ডেঙ্গু রোগ নিয়ন্ত্রণে আসবে না। মশক দমনে জনগণকেও সম্পৃক্ত করতে হবে। প্রতিটি এলাকায় জনপ্রতিনিধিসহ কমিটি করে দিতে হবে, যারা তাদের এলাকায় মশক দমনের বিষয়ে জবাবদিহি করবে।

এ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, আমরা ইতিমধ্যেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন এলাকার ডেঙ্গু রোগীদের ঠিকানা সংগ্রহ করে সেই বাড়ির ৪০০ গজ ব্যাসার্ধে র্যাপিড অ্যাকশন টিমের মাধ্যমে স্পেশাল পরিচ্ছন্ন এবং মশক নিধন অভিযান পরিচালনা করেছি। যেসব হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী আছে সেসব হাসপাতালের চারপাশে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা এবং মশক নিধন অভিযান পরিচালনা করেছি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগের মাধ্যমে উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন এলাকার ডেঙ্গু রোগীদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ অব্যাহত আছে। 

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেন, আমাদের দেশে অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে মশা নিয়ন্ত্রণে আছে। আগামী দিনগুলোতে আমরা কীভাবে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে আরো জোরালো ভূমিকা রাখতে পারি সে বিষয়ে আমরা কাজ করছি।