বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্নদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে চিকিত্সার সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। গতকাল রবিবার কর্মবিরতির দ্বিতীয় দিনে হাসপাতালের মূল চিকিত্সক ও নার্সরা চিকিত্সাসেবায় নিয়োজিত থাকলেও সংকট রয়েই গেছে। সহকারী রেজিস্ট্রারকে মারধরের মামলা প্রত্যহারসহ তিন দফা দাবি আদায় না হওয়ায় ইন্টার্নরা কর্মবিরতি পালনের ব্যাপারে অনড় রয়েছেন। হাসপাতালের পরিচালক উভয় পক্ষকে নিয়ে বিষয়টি বারবার সমাধানের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হচ্ছেন। ফলে রবিবার রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত উভয় পক্ষ নিজ নিজ দাবিতে অনড় থাকায় কোনো সমাধান হয়নি। ২০ অক্টোবর হাসপাতালের মেডিসিন ইউনিট-৪-এর সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. মাসুদ খানকে মারধর করায় পরিস্থিতি উত্তাল হয়ে ওঠে। হামলার পরদিন ডা. মাসুদ খান ইন্টার্ন চিকিত্সক সজল পান্ডে ও তরিকুল ইসলামের নাম উল্লেখ করে আরো ৮-১০ জনের বিরুদ্ধে তার ওপর হামলা ও মারধরের অভিযোগ এনে পরিচালক বরাবর অভিযোগ দায়ের করেন।
উদ্ভূত পরিস্থিতির মধ্যে সজল পান্ডেকে সভাপতি ও তরিকুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক করে ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের কমিটির অনুমতি এবং সর্বশেষ ডা. মাসুদ খান কোতোয়ালি মডেল থানায় ঐ ইন্টার্ন চিকিত্সকদের নাম উল্লেখ করে মামলার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। মাসুদ খানের দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহারসহ তিন দফা দাবিতে শনিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেন ইন্টার্ন চিকিত্সকেরা।
এদিকে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ১ হাজার শয্যার বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গড়ে প্রতিদিন দেড় থেকে ২ হাজার রোগী ভর্তি থাকে। প্রয়োজনের তুলনায় অর্ধেক চিকিত্সক পদশূন্য থাকায় এই হাসপাতালে চিকিত্সার সংকট প্রতিনিয়ত। এ অবস্থায় ইন্টার্ন চিকিত্সকদের কর্মবিরতির মধ্যে শনিবার সকাল ৯টা থেকে রবিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় পূর্বের চেয়ে দ্বিগুণ রোগী মারা গেছে। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয় ১০ জন রোগীর। দুই দিনেও ডাক্তারের দেখা পায়নি রোগী ও তাদের স্বজনেরা।
এ ব্যাপারে হাসপাতালের পরিচালক ডা. বাকির হোসেন জানান, দুই পক্ষকে নিয়ে আলোচনায় বসলেও কোনো পক্ষ থেকে ছাড় দিতে রাজি না হওয়ায় সমঝোতা হয়নি। তবে সমস্যার সমাধানে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।