নারায়ণগঞ্জে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে কিশোরীকে হত্যার চেষ্টা

গোদাগাড়ীতে গণধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার ৩

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে দল বেঁধে ধর্ষণের অভিযোগে তিন জন, চট্টগ্রামে পৃথক ধর্ষণের ঘটনায় দুই জন, কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে প্রবাসীর স্ত্রী ধর্ষণের অভিযোগে এক জন এবং বগুড়ার নন্দীগ্রাম ও লালমনিরহাটের পাটগ্রামে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আরো দুই জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে। এদিকে নারায়ণগঞ্জে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে এক কিশোরীকে ছাদ থেকে ফেলে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। এছাড়া স্কুলছাত্রী ধর্ষণের চেষ্টায় এক যুবককে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।

স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী জানান, গোদাগাড়ীতে নারী সবজিবিক্রেতাকে (৪০) দল বেঁধে ধর্ষণের অভিযোগে তিন জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার রাতে উপজেলার দেওপাড়া ইউনিয়নের ধামিলা লাড্ডুর মোড়ে মুন্টির আমবাগানে এ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। গ্রেফতারকৃতরা হলো পবা উপজেলার দামকুড়া থানার বিনদারামপুর গ্রামের শুকুর (৪০), গোদাগাড়ী উপজেলার ধামিলা গ্রামের রনি (৩০) ও বাবু (৪৫)। পাওনা টাকা আনতে গিয়ে গণধর্ষণের শিকার ঐ নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে গতকাল তিন জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

চট্টগ্রাম অফিস জানায়, বোয়ালখালীর চরখিজিরপুরে গৃহকর্মী ধর্ষণের অভিযোগে হাজি ফজল করিম নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল করিম জানান, ফজল করিমের বাড়িতে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতেন ঐ গৃহবধূ। শুক্রবার রাতে ধর্ষিত নারী ও তার স্বামী থানায় অভিযোগ করলে শনিবার ফজল করিমকে গ্রেফতার করা হয়। এদিকে শাকপুরা ফিকো গার্মেন্টসের পেছনে ১২ বছর বয়সি এক কিশোরীকে জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগে শনিবার শিমুল দে নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি ও করিমগঞ্জ সংবাদদাতা জানান, করিমগঞ্জে নৌকায় মালয়েশিয়া প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে জনতা ধর্ষক বোরহানউদ্দিনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। গত শনিবার বিকালে উপজেলার মনসন্তোষ গ্রামের প্রবাসীর স্ত্রী নৌকায় করে ফুফুর বাড়িতে যাওয়ার পথে ভুষারকান্দা গ্রামের বিলে বোরহানউদ্দিন জোরপূর্বক তাকে ধর্ষণ করে। পরে নৌকা থেকে নামিয়ে একটি অটোরিকশায় তুলে দিতে চাইলে তার ডাকচিত্কারে ফাজিলখালী বাজারের লোকজন এসে বোরহানউদ্দিনকে আটক করে।

নন্দীগ্রাম (বগুড়া) সংবাদদাতা জানান, নন্দীগ্রামে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে কৌশলে বাড়ির পাশে জঙ্গলে ডেকে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আবু তালেব (৬৫) নামের এক বৃদ্ধকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার কামুল্লা চকনাথখোলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ঐ ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন।

পাটগ্রাম (লালমনিরহাট) সংবাদদাতা জানান, উপজেলার দহগ্রাম ইউনিয়নের নতুনপাড়া এলাকায় ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে পুলিশ হাসানুর রহমান (২৩) নামের এক যুবককে গ্রেফতার করেছে। গত শুক্রবার রাতে ঐ ছাত্রীকে নানা প্রলোভনে ধর্ষণের চেষ্টা করে হাসানুর। গতকাল রবিবার ছাত্রীর বাবা থানায় অভিযোগ করলে হাসানুরকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠায় পুলিশ।

কেন্দুয়া (নেত্রকোনা) সংবাদদাতা জানান, উপজেলার পনকেন্দুয়া গ্রামে ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে ধানখেতে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটি প্রথমে ১ লাখ টাকার বিনিময়ে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করায় অবশেষে আট দিন পর মামলা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই ধর্ষক একলাছ মিয়া (২৬) ও তার সহযোগী সাইদুর রহমান পলাতক রয়েছে।

স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ জানান, বন্দরে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে এক কিশোরীকে (১৫) ছাদ থেকে ফেলে দিয়ে হত্যার চেষ্টা করে দুর্বৃত্তরা। গত শনিবার রাতে কেওঢালা বাগদোবাড়িয়া গ্রামের রশিদ মিয়ার তিনতলা ভাড়াটিয়া বিল্ডিংয়ে এ ঘটনা ঘটে। আহত ঐ কিশোরী বর্তমানে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। ঘটনার পর থেকে আসামি রুবেল ও অপু পলাতক রয়েছে। 

এদিকে ফতুল্লায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ করতে গিয়ে গণধোলাইয়ের শিকার হয়েছে রাজীব মোল্লা নামের এক যুবক। শনিবার রাতে উপজেলার দৌলতপুরে এ ঘটনা ঘটে। পরে এলাকাবাসী রাজীব মোল্লাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।

বরগুনায় গণধর্ষণ মামলায় সাক্ষীর যাবজ্জীবন

এদিকে বরগুনা (উত্তর) প্রতিনিধি জানান, বরগুনায় একটি ধর্ষণ মামলার সাক্ষী থেকে আসামি হওয়া এমাদুল জোমাদ্দারকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন বিচারক। এছাড়া রবিবার এই মামলার রায়ে দুই আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়। একই সঙ্গে দুই আসামিকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার অপরাধে বাদীর বিরুদ্ধে ১২ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ মামলা দায়েরের আদেশ দিয়েছেন বরগুনা নারী ও শিশু আদালতের বিচারক মো. হাফিজুর রহমান।

২০১৫ সালের ১২ জুলাই পাথরঘাটা উপজেলার মধ্য বাইনচটকি গ্রামের কথিত ভিকটিম দুই জনকে আসামি করে বরগুনা নারী ও শিশু আদালতে এই গণধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলার এক নম্বর আসামি ছিলেন মহসিন মিয়া ও দুই নম্বর মোয়াজ্জেম খান এবং অন্যতম সাক্ষী ছিলেন এমাদুল জোমাদ্দার। প্রকৃতপক্ষে সাক্ষী এমাদুলের সঙ্গে শত্রুতার কারণে ভিকটিমকে দিয়ে মহসিন ও মোয়াজ্জেম খানকে ফাঁসাতে মামলাটি দায়ের করা হয়।