বন্দর বাজার ‘পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে’ যুবক রায়হান (৩৪) হত্যা মামলায় গ্রেপ্তারকৃত পুলিশ কনস্টেবল হারুনুর রশীদ রবিবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হননি। পরে বিচারক জিহাদুর রহমান কনস্টেবল হারুণকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইর পুলিশ পরিদর্শক মহিদুল ইসলাম এ কথা জানিয়েছেন। ২য় দফা রিমান্ড শেষে গতকাল দুপুরে হারুনুর রশীদকে সিলেটের অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়েছিল। গত ২৯ অক্টোবর হারুনকে দ্বিতীয় দফায় তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। প্রথম দফায় তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল।
এর আগে আরেক পুলিশ কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাসকেও দুই দফায় আট দিনের রিমান্ডে নেয় পিবিআই। তিনিও দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেননি। চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলায় এএসআই আশেক-ই এলাহিকে গ্রেপ্তার করে গত ২৯ অক্টোবর পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পিবিআই। ১১ অক্টোবর ভোরে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে ‘পুলিশি নির্যাতনে’ রায়হান মারা যান। দ্বিতীয় দফা ময়নাতদন্তেও রায়হানের শরীরে শতাধিক আঘাতের চিহ্ন পায় ফরেনসিক বিভাগ। এই ঘটনায় ১২ অক্টোবর রাতে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে সিলেট কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন রায়হানের স্ত্রী।
পরে পুলিশের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হলে পুলিশ ফাঁড়িতে রায়হানকে নির্যাতনের প্রাথমিক প্রমাণ পায় কমিটি। পরে কমিটির সুপারিশে বন্দরবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়া, কনস্টেবল হারুনুর রশিদ, তৌহিদ মিয়া ও টিটুচন্দ্র দাসকে সাময়িক বরখাস্ত এবং এএসআই আশেক এলাহী, এএসআই কুতুব আলী ও কনস্টেবল সজিব হোসেনকে প্রত্যাহার করা হয়। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছে পিবিআই। মামলার প্রধান অভিযুক্ত এসআই আকবর পলাতক রয়েছেন।
আকবরকে নিয়ে সিলেট জুড়ে ধূম্রজাল সৃষ্টি হয় ঘটনার পর থেকেই। তিনি দেশেই আত্মগোপনে আছেন না সীমান্ত অতিক্রম করেছেন—এই প্রশ্ন সবার মুখে মুখে। সিলেটে অসমর্থিত সূত্র মতে, হেলাল নামে এক ব্যক্তির সহায়তায় সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে আকবর ভারতে পালিয়ে গেছেন। হেলালকে গত ২২ অক্টোবর একটি মামলায় গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।