হত্যাচেষ্টা মামলায় আটক চরভদ্রাসন উপজেলা চেয়ারম্যান পদ-প্রার্থী দিপু খা

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্ধিতাকারী যুবদল নেতা আলোচিত ওবায়দুল বারী দিপু খানকে একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় আটক করেছে থানা পুলিশ। গত শুক্রবার হরিরামপুর ইউনিয়নের চরশালেপুরে শেখ আসাদ নামে এক ব্যক্তিকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তাকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। রবিবার দিবাগত রাতে তাকে আটক করা হয়।  এই মামলার অন্যতম আসামী দীপু খা’র চাচাতো ভাই উজ্জল খান আপন চাচাতো-ফুফাতো বোনকে ধর্ষণ ও তার ভিডিও ছড়িয়ে দেয়ার মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি। 

মামলার এজাহার, পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব থেকে দীপু খার সাথে আসাদের বিরোধ ছিল। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হওয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দীপু খার পক্ষে কাজ না করায় এই বিরোধ চরমে পৌঁছে। সেই জের ধরেই গত শুক্রবার সন্ধ্যায় চরশালেপুর এলাকার মৃত শেখ আবদুল খালেকের ছেলে শেখ আসাদকে কুপিয়ে আহত করে সন্ত্রাসীরা। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় আসাদকে প্রথমে উপজেলা হাসপাতালে ও পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে পরিবারের সদস্যরা। আসাদের অবস্থা আশঙ্কামুক্ত নয় বলে জানিয়েছে হাসপাতাল সূত্র।

এই ঘটনায় দীপু খানকে প্রধান করে চরভদ্রাসন থানায় ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন আহত আসাদের মা আসমা বেগম। এই মামলার অন্যতম আসামি উজ্জল খান আপন মামাতো-ফুফাতো দুই বোনকে ধর্ষণ ও ভিডিও ছড়িয়ে দেয়ার মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি। উজ্জল খান আটক দীপু খানের চাচাতো ভাই।

স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, চায়না আক্তার নামে এক তরুণীকে ধর্ষণ ও তার গর্ভের ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগে দীপু খান, তার ভাই টিও খান এবং দীপু খানের স্ত্রীর নামে এর আগেও ধর্ষণ ও ভ্রূণ হত্যার মামলার রয়েছে। মামলাটির চার্জশিট গঠনের পরে উচ্চ আদালত থেকে মামলাটি স্থগিত করে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।

চরভদ্রাসন থানার অফিসার ইনচার্জ নাজনীন খানম ইত্তেফাককে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মামলার এজাহার পেয়ে বিষয়টি তদন্তে নামে পুলিশ। ঘটনার সত্যতা পাওয়ার পরে গোপন সংবাদে ভিত্তিতে চরভদ্রাসন বাজার থেকে দীপু খাকে আটক করে পুলিশ। তাকে সোমবার আদালতে সোপর্দ করা হবে বলেও জানান ওসি। 

উল্লেখ, ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলাটি জনপ্রিয় সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান নিক্সন চৌধুরী নির্বাচনী এলাকার একটি উপজেলা। গত ১০ অক্টোবর এই উপজেলায় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে এমপি নিক্সন চৌধুরী নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাফেজ মো. কাউসারকে সমর্থন দেন এবং বিপুল ভোটের ব্যবধানে তিনি জয়লাভ করেন। 

প্রসঙ্গত, হাফেজ মো. কাউসার আওয়ামীলীগের প্রার্থী হয়ে গত তিনবার নির্বাচন করে পরাজিত হয়েছিলেন। এই নির্বাচনে ঘোড়া প্রতীক নিয়ে প্রতিদন্ধিতা করেছিলেন ওবায়দুল বারী দিপু খান। তিনি নির্বাচনে দ্বিতীয় হয়েছিলেন।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি