কয়েক দিন বাংলাদেশ জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু বলেছেন, বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের আগে সব খেলোয়াড়কে ফিটনেস পরীক্ষায় পাশ করে আসতে হবে। কিন্তু বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) চিকিত্সা বিভাগ এখনো নিশ্চিত না যে, এই টেস্টটা হবে কি না এবং টেস্ট হলে সেখানে পাশ স্কোর কত রাখা হবে, সেটা নিয়েও দ্বিধা আছে নিজেদের মধ্যে।
যদিও ফিটনেস টেস্টের জন্য অনেক খেলোয়াড় এরই মধ্যে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। গতকাল বেশ কয়েক জন ক্রিকেটার ট্রায়াল টেস্টও দিয়েছেন। এই ফিটনেস পরীক্ষার আইডিয়াটাকে খুব ভালো বলেই দাবি করলেন বিসিবির প্রধান চিকিত্সক দেবাশীষ চৌধুরী, ‘এটা দারুণ একটা কালচার হতে পারে। আমরা যদি প্রতিটা টুর্নামেন্টের আগে ফিটনেস পরীক্ষার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে পারি, তাহলে এটা খেলার মানকেই অনেক বাড়িয়ে দেবে। সে জন্যই এই প্রস্তাবনাটা সামনে এসেছে।’
কিন্তু সমস্যা হলো, অনেক খেলোয়াড় ফিটনেস পরীক্ষা দেওয়ার মতো প্রস্তুতির সুযোগ পাননি। এটাকে একটা অন্তরায় মনে করছেন দেবাশীষ। তিনি বলছিলেন, ‘দেখুন, আমাদের কাঠামোর মধ্যে যারা আছে, এরা অনেক দিন ধরেই ফিটনেস নিয়ে কাজ করছে। কিন্তু টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট তো অনেক খেলোয়াড় নিয়ে হবে। তার বেশির ভাগই আমাদের কাঠামোর ভেতর ছিল না। ফলে এদের প্রস্তুতিটা নেই। তাদের সে সুযোগও ছিল না। এখন আমাদের বিবেচনা করতে হবে যে, আমরা এই অবস্থায় তাদের জন্য ঠিক কী করতে পারি।’
আরেকটা ব্যাপার হলো, বিসিবি টেস্ট নিলেও তার বেঞ্চ মার্কটা ঠিক করতে পারেনি। ডক্টর দেবাশীষই বলছিলেন, ‘আমরা বেঞ্চ মার্ক কত রাখব? এটা নিয়ে আমাদের বসতে হবে। ধরা যাক বিপ টেস্টে ১১ করে বললাম। দেখা যাবে, বেশির ভাগই সেখানে পৌঁছাতে পারছে না। তাই এটা নিয়ে আলাপ করতে হবে আমাদের। টেস্ট যদি নিতেই হয়, বেঞ্চ মার্কটা নিয়ে আমাদের বেশ ভাবতে হবে।’
তবে সবকিছুর পরও টেস্ট নেওয়ার ব্যাপারে ইতিবাচক থাকতে চান দেবাশীষ। তিনি এর আরেকটা প্রয়োজনীয়তাও দেখছেন, ‘একটা স্কোরকে আমরা যদি বেঞ্চ মার্ক বলে দেই, সবাই কিন্তু চেষ্টাটা করবে। হ্যা, হয়তো অনেকে পারবে না। ১১-এর জায়গায় ১০ তো পারবে। কিছুটা তো উন্নতি করবে নিজের। চেষ্টাটাই বড় প্রাপ্তি হবে। আমরা চাই ছেলেরা ফিটনেস বাড়ানোর চেষ্টাটা অন্তত করুক।’