ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিশেষায়িত হাসপাতাল বক্ষব্যাধি হাসপাতালসহ চারটি সরকারি হাসপাতালে এক্সরে মেশিন চালানোর জন্য রেডিওগ্রাফার (টেকনোলজিস্ট রেডিও) নেই। একটি হাসপাতালের এক্সরে মেশিন দীর্ঘদিন ধরে বিকল অবস্থায় আছে। এতে চিকিত্সাসেবা নিতে আসা রোগীদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। এদিকে হাসপাতালগুলোতে রেডিওগ্রাফার (টেকনোলজিস্ট রেডিও) সংকট ও এক্সরে মেশিন বিকল থাকার বিষয়টি স্বীকার করে এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি লিখেছেন বলে জানিয়েছেন জেলার সিভিল সার্জন ডা. মো. একরাম উল্লাহ।
জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ৯টি উপজেলার মধ্যে আটটি উপজেলায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স রয়েছে। এর মধ্যে বিজয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি চালু হলেও ইনডোরে রোগী দেখা হয়। কিন্তু কোনো রোগীকে ভর্তি করা হয় না। সেবা কার্যক্রম পুরোপুরি চালু হয়নি। চালু থাকা সাতটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মধ্যে আশুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্সরে মেশিন চালনার জন্য রেডিওগ্রাফার (টেকনোলজিস্ট রেডিও) নেই। এছাড়া আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রেডিওগ্রাফার (টেকনোলজিস্ট রেডিও) থাকলেও এক্সরে মেশিনটি দীর্ঘদিন ধরে বিকল অবস্থায় পড়ে আছে। এছাড়া জেলার একমাত্র বিশেষায়িত হাসপাতাল বক্ষব্যাধি হাসপাতালের এক্সরে মেশিনটি চালানোর জন্য দীর্ঘদিন ধরে রেডিওগ্রাফার (টেকনোলজিস্ট রেডিও) নেই। সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সহসভাপতি আবদুন নূর বলেন, জেলার বিশেষায়িত হাসপাতাল বক্ষব্যাধি হাসপাতালসহ চারটি সরকারি হাসপাতালে এক্সরে মেশিন চালানোর জন্য রেডিওগ্রাফার (টেকনোলজিস্ট রেডিও) না থাকায় ও আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক্সরে মেশিনটি দীর্ঘদিন ধরে বিকল থাকায় সাধারণ রোগীরা ভোগান্তি পোহাচ্ছে। তাদের চড়ামূল্যে বাধ্য হয়ে বেসরকারি ক্লিনিকগুলো থেকে এক্সরে করাতে হচ্ছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন ডা. মো. একরাম উল্লাহ বলেন, ২৫০ শষ্যা বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালটি দেখাশোনার জন্য একজন তত্ত্বাবধায়ক আছেন। এছাড়া জেলার ৯টি উপজেলার মধ্যে আটটি উপজেলায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থাকলেও বিজয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এখানো সেবা কার্যক্রম পুরোপুরি চালু হয়নি। বাকী সাতটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মধ্যে তিনটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলার একমাত্র বিশেষায়িত হাসপাতাল বক্ষব্যাধি হাসপাতালে এক্সরে মেশিন চালানোর জন্য প্রায় ১ বছর ধরে রেডিওগ্রাফার নেই। এছাড়া প্রায় ছয় মাস ধরে আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক্সরে মেশিনটি বিকল। তিনি বলেন, গত ২২ অক্টোবর আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রেডিওগ্রাফার (টেকনোলজিস্ট রেডিও) গোকুল চন্দ্র মণ্ডলকে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বদলি করা হয়েছে। তিনি বলেন, এর চারটি হাসপাতালে রেডিওগ্রাফার নিয়োগ ও আখাউড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক্সরে মেশিনটি মেরামত করার জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি লিখেছি। আশা করি দ্রুত বিষয়গুলোর সমাধান করা যাবে।