সাঁথিয়ায় বিলগুলোতে সুতিজালের বাঁধের কারণে পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হওয়ায় কাদামাটিতেই পেঁয়াজের বীজতলা তৈরি করছেন কৃষক। তাদের দাবি, ক্যানেলের মুখে সুতিজালের বাঁধ দিয়ে পানি নিষ্কাশনে বাধা দেওয়ায় জমিতে সময়মতো পেঁয়াজের বীজতলা ও পেঁয়াজ রোপণ করা সম্ভব হয় না। রবিশস্যের আবাদে দেরি হয়। এদিকে দেখা গেছে, কৃষকের ঘরে ঘরে ছাই কিনে রাখা হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার ঘুঘুদহ, কাটিয়াদহ, সাতআনি, সুক্তাহার, জামাইদহসহ বিভিন্ন বিলের প্রবেশদ্বার ও পানি বের হওয়ার রাস্তা কাকেশ্বরী নদীতে প্রতিবারের মতো এ বছরও অবৈধভাবে ২০টি সুতিজালের বাঁধ স্থাপন করেছে। সাঁথিয়া ২৪ মাইল সড়কের তালপট্টি ব্রিজে সুতিজালের বাঁধ তৈরি করে ঘুঘুদহের দুটি বিল ও সাতআনির চরের বিলের পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত করে মাছ শিকার করা হচ্ছে।
সাঁথিয়া পৌরসভার কাজীপুর গ্রামের কৃষক আব্দুর রাজ্জাক ও কাশিনাথপুর ইউনিয়নের কল্যাণপুর গ্রামের কৃষক তোমসের, আব্দুল বাতেন, হুইখালী গ্রামের কৃষক আসলামসহ অনেকেই জানান, সময়মতো বিলের পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় আমরা বাধ্য হয়ে ছাই ব্যবহার করছি। জমিতে চাষ দিয়ে বীজতলা তৈরি করলে কমপক্ষে এক মাস দেরি হবে। এতে পেঁয়াজ রোপণ নাবি হবে। কাঁদামাটিতে পেঁয়াজের বীজতলা তৈরিতে আমাদের বেশি টাকা গুনতে হচ্ছে। এক কেজি পেঁয়াজের বীজতলা তৈরিতে ১ হাজার টাকার ছাই অতিরিক্ত লাগছে। এদিকে গতকাল সোমবার সকালে তালপট্টি ও সাতআনির চরের সুতিজাল অপসারণ করেন বেড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপসহকারী প্রকৌশলী আব্দুল খালেক। তারা বাঁশ থেকে কিছু জাল সরিয়ে চলে যান। কৃষকদের আশঙ্কা, পুনরায় ঐ জাল স্থাপন করে পানি নিষ্কাশনে বাধা সৃষ্টি করবে। আব্দুল খালেক বলেন, ‘কাকেশ্বরী নদীতে ২০টি সুতিজাল অপসারণের জন্য নিজ নিজ ব্যক্তিকে নোটিশ দিই। তারা বাঁধ অপসারণ না করায় লোকজন দিয়ে আমরা অপসারণের কাজ করছি।’ সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এস এম জামাল আহম্মেদ বলেন, ইতিমধ্যে বাঁধ অপসারণ শুরু হয়েছে। অল্প সময়ে সমস্ত সুতিজালের বাঁধ অপসারণ করা হবে।