মাধবকুণ্ডে ফিরেছে প্রাণচাঞ্চল্য

বড়লেখা উপজেলার মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত এলাকায় ফিরেছে প্রাণচাঞ্চল্য। প্রকৃতির জলকন্যার সান্নিধ্য উপভোগ ও দিগন্ত বিস্তৃত সবুজের মধ্যে বুক ভরে নিঃশ্বাস নিতে ভ্রমণপিপাসুরা ছুটছেন মাধবকুণ্ডে। করোনা পরিস্থিতিতে প্রায় সাড়ে সাত মাস বন্ধ থাকার পর নভেম্বরের ১ তারিখ থেকে পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে মাধবকুণ্ড। প্রথম দিনেই অনেক পর্যটকের উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে। বন বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এবছর করোনা ভাইরাস সংক্রমণের শঙ্কায় ১৯ মার্চ থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য মাধবকুণ্ডের গেট বন্ধ করে দেয় বন বিভাগ। ফলে দূরদূরান্ত থেকে আসা পর্যটকদের মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতের প্রবেশ পথ থেকে ফিরে যেতে হয়েছে। রবিবার বিকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রায় সাত মাস পর্যটকের আনাগোনা না থাকায় প্রাণ ফিরেছে মাধবকুণ্ডের প্রকৃতিতে। নির্জন পাহাড়ি ঝরনার আশপাশে ফিরেছে বুনো আবহ। পর্যটকদের হেঁটে চলার পথে জমে ওঠেছে শ্যাওলা। ফাঁকা জায়গাগুলোতে মাথা তুলছে বুনো ঘাসলতা, জেগে উঠছে চেনা-অচেনা গাছ। দীর্ঘদিন পর দিগন্তবিস্তৃত সবুজের মধ্যে প্রকৃতির নতুন রূপ, ঝরনার শব্দের সঙ্গে ঝিঁঝি পোকার ডাক, পাখির কলকাকলি ও পর্যটকদের উচ্ছ্বাস মিলেমিশে একাকার হয়েছে। পর্যটকদের কেউ কেউ জলপ্রপাতের জলে নেমে শরীর ভিজিয়েছেন। হাঁটু সমান জলের মধ্যে দৌড়ঝাঁপ করছেন। আবার অনেকে স্মৃতি ধরে রাখতে প্রিয়জনদের সঙ্গে ছবি তুলেছেন।

ঢাকার ধানমন্ডি থেকে আসা ইউল্যাব ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মেহেদি আবি বলেন, মাধবকুণ্ড খুলে দেওয়ায় পরিবারের সবাইকে নিয়ে এসেছি। সবাই অনেক মজা করছি। এখানকার প্রকৃতি অনেক সুন্দর। মাধবকুণ্ডের শরবত ও পানি বিক্রেতা তাজুল ইসলাম বলেন, গত সাড়ে সাত মাস অনেক কষ্টে জীবন পার করেছি। এখন মাধবকুণ্ড খুলেছে। পর্যটকের কাছে শরবত আর পানি বিক্রি করিয়া চলতে পারমু।’ মাধবকুণ্ড পর্যটক সহায়ক ও উন্নয়ন কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক রেজাউল হক বলেন, ‘আমরা স্বেচ্ছাশ্রমে পর্যটকদের জন্য কাজ করি। যাতে তাদের কোনো সমস্যা না হয়। সে জন্য একটি দল সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখে।’ পর্যটন পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ভানু লাল রায় বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে পর্যটকরা মাধবকুণ্ড ঘুরছেন। প্রথম দিন ৪০০ থেকে ৫০০ জনের মতো পর্যটক এসেছেন। তবে কয়েক দিন গেলে পর্যটক সংখ্যা বাড়বে। পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্বে আমরা কাজ করছি।