রাজধানীতে গলায় ফাঁস দিয়ে শিশু, গৃহবধূসহ তিন জন আত্মহত্যা করেছেন। আত্মহত্যাকারীরা হলেন মতিঝিল এলাকার বিল্লাল হোসেন (৪০), সবুজবাগ এলাকার সোনিয়া আক্তার সুমি (১৯) ও আহির বিশ্বাস (১৫)। রবিবার রাতে ও গতকাল মৃতদের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ।
মৃত আহিরের মামা তাপস কান্তি বল জানান, আহির টাঙ্গাইলের মির্জাপুর ভারতেশ্বরী হোমস স্কুলের দশম শ্রেণিতে পড়াশোনা করত। স্কুল বন্ধ, তাই বাসায় ঠিকমতো পড়াশোনা করত না সে। এ নিয়ে রবিবার রাতে মা তাকে বকাঝকা করেন। সে কারণেই আত্মহত্যা করতে পারে।
এদিকে মতিঝিল থানার এসআই জয়নাল আবেদীন জানান, কুমিল্লার চান্দিনার আব্দুল খালেকের ছেলে বিল্লাল হোসেন। এক মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে মতিঝিল টিঅ্যান্ডটি কলোনির একটি বাসার নিচতলায় ভাড়া থাকেন। ফকিরাপুল এলাকার একটি ওয়ার্কশপে কাজ করতেন তিনি। রবিবার রাতে বিল্লাল বাসায় সবার অগোচরে রুমের দরজা বন্ধ করে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁস দেন। পরে থানায় খবর দিলে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে।
মৃত বিল্লালের ছোট ভাই মো. শাহজালাল জানান, ফকিরাপুলের একটি ওয়ার্কশপে ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে কাজ করেন তার ভাই। লকডাউনের পর থেকে তিনি নিয়মিত বেতন পেতেন না। এজন্য টেনশনে থাকতেন। তাদের ধারণা, টেনশন থেকেই তিনি এ ঘটনা ঘটিয়েছেন।
অন্যদিকে সবুজবাগ থানার এসআই মো. আনোয়ার হোসেন জানান, সোনিয়া আক্তার সুমি স্বামী শামীম সরদারকে নিয়ে সবুজবাগের কদমতলা ৮ নম্বর লেনের একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন। সুমির বাবার বাড়ি বাগেরহাট জেলায়। চার মাস আগে শামীম ও সুমির বাবার পছন্দে তাদের বিয়ে হয়। শামীম কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিলেন। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ক্যামেরাম্যানের কাজ করতেন তিনি। সুমি ছিলেন গৃহিণী। স্বামীকে কিছুতেই মেনে নিতে পারছিলেন না সুমি। তারই জেরে রাতে রুমের দরজা বন্ধ করে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন তিনি।