চামেলী লেনের মাঝামাঝিতে একটিই চারতলা বিল্ডিং ধেয়ে ধেয়ে উঠে গেছে। ক’দিনের ব্যাপার মাত্র! এর আগে এটি একটি টিনশেডের হাফবিল্ডিং ছিল—দীর্ঘকাল অব্দি। এই লেনের দুপাশে আর মাত্র সাতটি দোতলা বাড়ি এবং অন্য বাড়িগুলো টিনশেড-হাফবিল্ডিং আর একতলা। চামেলী লেনের ছোট-বড় সবার চোখ এই বাড়িটির দিকে। বাড়িটি যখন চারতলা পর্যন্ত হঠাত্ উঠে গেছে—মানুষের চোখ পড়তেই পারে, এটা তেমন দোষের কথা নয়। কিন্তু সমস্যা হলো কিছু বাড়িওয়ালার বক্রনেত্রদৃষ্টিও পড়েছে এই বাড়িটির দিকে; সেটিও দোষের ছিল না। সমস্যা বাধল অন্যত্র।
বলে নেওয়া ভালো যে, বাড়িটির মালিক জালু মিয়া। জালু মিয়া নাম তো আর দোষের কিছু নয়; এমন নাম থাকতেই পারে, তাই না? সমস্যা হয়েছে অন্যত্র। সেটিই বলি।
এলাকার দুষ্টু তরুণ সাজ্জাদ আর রাফিদ বাড়ির নির্মাণের টাকা কোথায় পেল জানার জন্য গোয়েন্দাগিরিতে নেমে গেল। শেষ পর্যন্ত তারা তথ্য উদঘাটন করেছে জালু মিয়া একটি দপ্তরে ড্রাইভারের চাকরি করে। সেই সুবাধে ঐ দপ্তরের বড় স্যারের সঙ্গে যোগসাজসে কয়েকজনের চাকরির ব্যবস্থা করে দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকার মালিক বনে গেছে। টাকার মালিক তো হতেই পারে, তাতেও সমস্যা ছিল না। কিন্তু সমস্যা বাধল অনত্র।
সাজ্জাদ আর রাফিদ দুজনে পরামর্শ করল যে, জালু মিয়ার সামনে পড়লেই হো হো করে হাসবে। ঘটনাক্রমে তারা প্রথমে আড়াল থেকে হাসি শুরু করে। তারপর চামেলী লেনের শিশু-কিশোর-তরুণদের শিখিয়ে দেয় জালু মিয়াকে দেখলেই হাসবে। প্রথমাবস্থায় জালু মিয়া বিষয়টি বুঝতে পারেনি যে তাকে বিদ্রূপ করার জন্যই শিশু-কিশোর-তরুণরা হাসে। কিন্তু পাশের বাসার অহিদ যখন জালু মিয়ার ছেলে বালু মিয়াকে ঘটনার কারণ বলল এবং বালু মিয়াও জালু মিয়াকে বলে দিল, তখন থেকেই জালু মিয়া তাকে দেখে কেউ হাসলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। ক্রমে হাসির বিষয়টি ভীষণ বিষম জটিলতা পাকায়। বাসা থেকে বের হতেই চারপাশ থেকে হাসি আর হাসির শব্দ। কেউ প্রকাশ্যে কেউবা গোপনে জানালার পাশ থেকে দাঁড়িয়ে। মধুর হাসিও এমন শরবিদ্ধ করতে পারে তা জালু মিয়া ছাড়া অন্যরা কিন্তু কেউ বুঝতে পারেনি।
তারপর হলো কী?
মানুষ ঘুম থেকে জাগার আগে জালু মিয়া অফিসে চলে যায় আর ফেরে রাতের অন্ধকারে। তার বড় জগিট একটি রুমে বন্দি।
অলংকরণ :অবিনাশ আচার্য