ই-কমার্সের প্রতারণা রোধে নীতিমালা করার আহ্বান

তিন বছরের ই-কমার্সের আকার হবে

২৫ হাজার কোটি টাকা

ইত্তেফাক রিপোর্ট

দেশে দিনে দিনে অনলাইন ক্রয়-বিক্রয় তথা ই-কমার্সের পরিধি বাড়ছে। আগামী তিন বছরের মধ্যে এ খাতের মাধ্যমে ক্রয়-বিক্রয় ৩০০ কোটি মার্কিন ডলার বা প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা হবে বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা। তবে অনলাইনে ব্যবসার পরিধি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোক্তার প্রতারিত হওয়ার খবরও শোনা যাচ্ছে। ই-কমার্সের মাধ্যমে ভোক্তার প্রতারিত হওয়া তথা ভোক্তা স্বার্থ রক্ষায় দ্রুত নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। গতকাল মঙ্গলবার ই-কমার্স খাতের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে ব্যবসায়ীদের সংগঠন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত এক অনলাইন সেমিনারে (ওয়েবিনার) তারা এসব কথা বলেন।

আলোচনায় অংশ নিয়ে কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, ই-কমার্স খাতের বিস্তৃতির গতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যদি যথাযথ নীতিমালা করা না হয়, তাহলে ভোক্তাদের অধিকার ক্ষুণ্ন হবে। ই-কমার্স খাতে বিদ্যমান সমস্যা চিহ্নিত করে তার যথাযথ সমাধান না করা হলে কিছু অসত্ লোক তার অপব্যবহার করতে পারে। যার ফলে এখাতের অগ্রযাত্রা ব্যাহত হতে পারে। তিনি বলেন, দেশে ফেসবুক ভিত্তিক ই-কমার্সের বিস্তৃতি অত্যন্ত বেশি এবং এ খাতের উদ্যোক্তাদের স্বল্পমূল্যে নিবন্ধনের আওতায় নিয়ে আসা প্রয়োজন, যার মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব হবে। এক্ষেত্রে তিনি ই-কমার্স খাতের ভালো ভালো উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দিন বলেন, ই-কমার্সে বেশকিছু প্রতারণার উদাহরণ দেখা যাচ্ছে। যার ব্যাপারে সকলকে সচেতন হতে হবে। ডিজিটাল ব্যবসায় অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করতে একটি পরামর্শক কমিটি গঠন করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে ব্যবসায় স্বচ্ছতা আনয়নের জন্য ই-কমার্সকে ট্রেড লাইসেন্সে অন্তর্ভুক্ত করা, ই-কমার্স পরিচালনা ও অভিযোগ নিষ্পত্তি বিষয়ে নীতিমালা প্রণয়ন, অভিযোগ সেল গঠন, ঋণপ্রাপ্তিতে সহায়তা প্রদান বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

ডিসিসিআই সভাপতি শামস মাহমুদ বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে ই-কমার্স খাতের আকার প্রায় ২০০ কোটি মর্কিন ডলার এবং তা বছরে ৫০ শতাংশ হারে বাড়ছে কিন্তু ই-কমার্স খাতকে টেকসই করার পাশাপাশি আরো সংগঠিত করা এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ একটি প্রধান চ্যালেঞ্জ। কোভিড চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ই-কমার্স খাতকে প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় নিয়ে আসা, ডিজিটাল লেনদেনের ক্ষেত্রে সঠিক বিধি প্রয়োগ ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে বাংলাদেশের ব্যাংকের তদারকি বৃদ্ধি, ই-কমার্স সেবার ওপর প্রযোজ্য ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক কমানো, ই-কমার্সভিত্তিক ব্যবসায়ে প্রয়োজনীয় লাইসেন্সিং ও ব্যাংকিংসহ অন্যান্য সেবার শর্তসমূহ সহজ করা এবং এ খাতের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের বাজারে প্রবেশের সুযোগ বাড়াতে প্রশিক্ষণ প্রদানের আহ্বান জানান।

ওয়েবিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস)-এর সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবির বলেন, এ খাতের মোট উদ্যোক্তাদের মধ্যে মাত্র ৭ থেকে ৮ শতাংশ উদ্যোক্তা তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রমে সাফল্য পেয়েছে। তিনি জানান, বাংলাদেশে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ এবং ফেসবুকভিত্তিক বার্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ৩১২ কোটি টাকা।  তবে এফ-কমার্স উদ্যোক্তাদের অধিকাংশরই ট্রেড লাইসেন্স নেই। তিনি বলেন, ২০২৩ সালের মধ্যে দেশে ই-কমার্স খাতের পরিমাণ ৩০০ কোটি ডলারে পৌঁছাবে।

এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন পাঠাওয়ের সভাপতি সিএফও ফাহিম আহমেদ, দারাজ বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মোস্তাহিদুল হক, স্টার্টআপ বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা টিনা জাবিন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির প্রমুখ বক্তব্য দেন।