স্টাফ রিপোর্টার, রংপুর
রংপুর অঞ্চলে বীজআলুর দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন কৃষক ও ডিলাররা। জানা গেছে, রংপুরে চলতি মৌসুমের জন্য ৩ হাজার ৭৭২ দশমিক ৫০৬ টন আলুবীজের বরাদ্দ দিয়েছে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)। তবে এবার কৃষক পর্যায়ে প্রতি কেজি আলুর দাম প্রকারভেদে ৪৭-৪৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় সাড়ে ২১-২২ টাকা বেশি। রংপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে রংপুর অঞ্চলে আলু আবাদের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৯৩ হাজার ৫৫০ হেক্টরে ২৪ লাখ ৩১ হাজার ৫০ টন। বিএডিসি বীজ ও সার ডিলার অ্যাসোসিয়েশন রংপুরের সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বিএডিসির বীজআলুর দাম কেজিতে ২০-২২ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করায় কৃষকরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। বীজআলুর দাম বাড়ানোর কারণে কৃষকের আলু উত্পাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
রংপুর সিও বাজার এলাকার বিএডিসির ডিলার রেজাউল ইসলাম বলেন, কিছুদিন আগে এক চাষি দুই টন আলু ক্রয়ের জন্য বায়না করেছিলেন। কিন্তু যখন শুনেছেন এবার দাম প্রতি কেজি ৪৭-৪৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, তখন তিনি আর এ আলু কিনবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন।
রংপুর বিএডিসির উপপরিচালক (বীজ বিপণন) কৃষিবিদ মো. আসাদুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, বীজআলুর মূল্যবৃদ্ধির কারণ হলো বাজারে খাওয়ার আলুর দাম ঊর্ধ্বমুখী। কোনো অসাধু ব্যবসায়ী বীজআলু কম দামে কিনে যাতে বাজারে বিক্রি করতে না পারেন, সেজন্যই দাম বাড়ানো হয়েছে। বিএডিসি বীজ ও সার ডিলার অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা রংপুর বিএডিসির অফিসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করে দাম কমানোর অনুরোধ করেছেন। বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন। বিএডিসির উপপরিচালক আরো জানিয়েছেন, বীজ উত্তোলন ৩ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে।
এ ব্যাপারে ঢাকা খামারবাড়ির কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক মো. আবু সায়েম জানান, দাম বেশি হওয়ার কারণে কৃষকদের সস্তা মানহীন বীজের দিকে ঝোঁকার সম্ভাবনা রয়েছে।