ই-কমার্সের নামে ২৮৬ কোটি টাকা লোপাট

প্রতারিত হয়ে এখন নিজেই মহাপ্রতারক

পিনাকি দাসগুপ্ত

আল আমিন প্রধান। লেখপড়া উচ্চ মাধ্যমিক। গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরে। দেড় যুগ আগে চাকরির আশায় এসেছিলেন রাজধানী ঢাকায়। অনেক চেষ্টা করেও জোগাতে পারেননি চাকরি। শেষটায় মাল্টিলেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) কোম্পানি ডেসটিনির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে টাকাপয়সা ধার করে অতি লাভের আশায় সেখানে বিনিয়োগ করেন। বন্ধ হয়ে যায় ডেসটিনি। প্রতারিত হয়ে জীবনে নেমে আসে অন্ধকার। তবে কিছু একটা যে করতে হবে, সেই পরিকল্পনা নিয়ে নতুন উদ্যোমে কাজ শুরু করেন। ১০ মাসের চেষ্টায় ই-কমার্সের মাধ্যমে ২২ লাখ মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নেন ২৬৮ কোটি টাকা। শুধু তাই নয়, ২২ লাখ বিনিয়োগকারীর মধ্যে প্রবাসী রয়েছেন ৫ লাখ। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের একটি টিমের জিজ্ঞাসাবাদে এ তথ্য জানিয়েছেন এসপিসি ওয়ার্ল্ড এক্সপ্রেস লিমিটেড ই-কমার্সের নামে অনুমোদনহীন এমএলএম প্রতিষ্ঠানের এমডি আল আমিন। ডিবি পুলিশ আল আমিন প্রধান ও তার সহযোগী মো. জসিমকে গতকাল রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। এ ব্যাপারে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, ‘ই-কমার্সের নামে গত জানুয়ারিতে আল আমিন প্রতারণা শুরু করেন। দেশি-বিদেশি ২২ লাখ মানুষ সেখানে প্রতারিত হয়েছে।

মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মীর মোদাচ্ছের হোসেন বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ২৬ অক্টোবর রাজধানীর কলাবাগানের এফ হক টাওয়ারে কোম্পানির অফিস থেকে গ্রেফতার করা হয় আল আমিনের সহযোগী মানিক মিয়া, তানভীর আহমেদ, পাভেল সরকার, নাদিম ও ইয়াসির উল্লাহকে। তাদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার গ্রেফতার করা হয় আল আমিন ও জসিমকে।

ডিবির এই কর্মকর্তা আরো বলেন, গ্রেফতারকৃতদের দেওয়া তথ্য ও কোম্পানির সার্ভারের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে জানা যায়, এসপিসি ওয়ার্ল্ড এক্সপ্রেস লিমিটেড নামে এই কোম্পানি চলতি বছরে ই-কমার্সের লাইসেন্স নিয়ে যাত্রা শুরু করে। মাত্র ১০ মাস সময়ের মধ্যে সাধারণ মানুষের সরলতাকে পুঁজি করে উচ্চ কমিশনের প্রলোভন দেখিয়ে মোট ২২ লাখ ২৬ হাজার ৬৬৮ জন সদস্যের আইডি থেকে প্রায় ২৬৮ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। ব্যবসা কার্যক্রম অনলাইন অ্যাপভিত্তিক হওয়ায় বাংলাদেশের বাইরেও ১৭টি দেশের বাংলাদেশি প্রবাসী ও বিদেশি মিলিয়ে প্রায় ৫ লাখ সদস্য রয়েছেন বলেও তথ্য পাওয়া গেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আল আমিন জানান, কোম্পানির নামে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পাঁচটি গাড়ি, বিভিন্ন ব্যাংকে মোট আটটি অ্যাকাউন্ট রয়েছে তাদের।