বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিত্সকদের কর্মবিরতি গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। চার দিনের এই কর্মবিরতি চলাকালে ৫৬ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্র নিশ্চিত করেছে। জানা গেছে, কর্মবিরতির প্রথম দিন শনিবার ১৯, রবিবার ১৭ এবং সোম থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২০ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। অথচ কর্মবিরতির আগের দিন শুক্রবার মারা গেছে ১০ জন।
মারা যাওয়া রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, এসব রোগীর অধিকাংশের মৃত্যু হয়েছে চিকিত্সা না পেয়ে। এছাড়া অনেক রোগী চিকিত্সাসেবা না পেয়ে হাসপাতাল ত্যাগে বাধ্য হয়েছে।
শেবাচিম শাখা ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. সজল পান্ডে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে জানান, পরিচালকের আশ্বাসে এবং রোগীদের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করেই ধর্মঘট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, তাদের তিন দফা দাবির বিষয়টি পরিচালক গুরুত্বের সঙ্গে দেখবেন বলে জানিয়েছেন।
হাসপাতালের পরিচালক ডা. বাকির হোসেন জানান, ইন্টার্ন চিকিত্সকেরা লিখিতভাবে ধর্মঘট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। দুপুর ১২টার পর তারা হাসপাতালে চিকিত্সাসেবাও দেওয়া শুরু করেছেন।
প্রসঙ্গত, ডায়াগনস্টিক প্রতিষ্ঠান থেকে পাওয়া কমিশনের টাকার ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের জের ধরে গত ২১ সেপ্টেম্বর ডা. সজল পান্ডের নেতৃত্বে মেডিসিন ইউনিট- ৪-এর সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. মাসুদ খানকে তার কর্মস্থলে বেদম করা হয়। ডা. মাসুদ খান লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে বিচার না পেয়ে গত বৃহস্পতিবার ইন্টার্ন চিকিত্সক অ্যাসোশিয়েসনের সভাপতি ডা. সজল পান্ডে ও সাধারণ সম্পাদক ডা. তরিকুল ইসলামসহ ৮-১০ জনের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ইন্টার্ন চিকিত্সকেরা ডা. মাসুদ খানের বিরুদ্ধে ডায়গনস্টিক প্রতিষ্ঠান থেকে কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ তুলে তার বিচার এবং মামলা প্রত্যাহারসহ তিন দফা দাবিতে কর্মবিরতির ডাক দেন।