নোটিশ দেওয়ার এক্তিয়ার দুদকের রয়েছে :হাইকোর্ট

হাইকোর্ট বলেছে, দুর্নীতি তো হচ্ছেই। এটা তো লুকানোর কিছু নেই। যেখানেই দুর্নীতির গন্ধ পাবে সেখানেই পদক্ষেপ নেওয়ার এক্তিয়ার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) রয়েছে। তাদের ঘরে বসে থাকলে চলবে না। দুর্নীতির অনুসন্ধানে এ ধরনের নোটিশ দেওয়ার এক্তিয়ার সংস্থাটির রয়েছে। দুদকের তলব নোটিশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এক আইন কর্মকর্তার করা রিটের শুনানিতে বিচারপতি মো. মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার এই মন্তব্য করেন।

আদালত বলে, দুর্নীতি এখন ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। সব খানেই দুর্নীতি আছে। দুদকের অনুসন্ধান নোটিশে যদি আমরা হস্তক্ষেপ করি তাহলে একটা বাজে নজির তৈরি হবে। কারণ আমরা সবাই চাই দুর্নীতিমুক্ত দেশ হোক। দুদক ঘরে বসে থাকলে দুর্নীতি দমন করতে পারবে না। তাদেরকে গোয়েন্দাগিরি করতে হবে, কোথায় কী হচ্ছে। ব্যক্তির অপরাধের প্রমাণ সংগ্রহ করতে হবে।

গত ২৮ অক্টোবর ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জান্নাতুল ফেরদৌসি রুপাকে তলবের নোটিশ দেয় দুদক। এতে বলা হয়, তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও জালিয়াতির মাধ্যমে ঘুষ গ্রহণ করে জি কে শামীমসহ বিভিন্ন আসামির সঙ্গে আঁতাত করে জামিন করিয়ে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়াসহ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। উল্লেখিত অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে ৪ নভেম্বর দুদক কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হলো। পরে এই নোটিশ চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন তিনি।

রিটের শুনানিতে রুপার আইনজীবী জেড আই খান পান্না বলেন, অ্যাটর্নি জেনারেল সাংবিধানিক পদ। প্রধান বিচারপতির অধীনে সুপ্রিম কোর্টসহ সব কোর্ট। সেক্ষেত্রে দুদককে কোনো কার্যক্রম করতে হলে তাদের অনুমতি নিয়ে করলে ভালো হয়। আদালত বলে, দুদকের নোটিশ তো কোনো কোর্টের বিরুদ্ধে নয়, অভিযোগ একজন আইন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। নোটিশের জবাব দেওয়ার পর অনুসন্ধান করবে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সত্য কি না। আদালত আরো বলেন, ‘কীভাবে মূল্যায়ন করব কে আসল দুর্নীতিবাজ আর কে না? আপনি কি দুর্নীতি থেকে মুক্ত?’

জেড আই খান পান্না বলেন, রুপার পুরো পরিবার কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। সে কারণে কালকে হাজির হতে পারছেন না। তখন আদালত বলে, সেটা লিখিতভাবে দুদককে জানান। সুস্থ হলে হাজির হবেন। এর পরই হাইকোর্ট ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত রিটের শুনানি মুলতুবি করেন। একই সঙ্গে তাকে হাজির হতে সময় দেওয়ার জন্য বলে আদালত।