‘মার্কিন নির্বাচন নিয়ে কোনো মাথাব্যথা নেই ইরানের’

মার্কিন নির্বাচন নিয়ে সারা বিশ্বের নজর এখন যুক্তরাষ্ট্রের দিকে। কিন্তু এ নির্বাচন নিয়ে তেমন একটা মাথাব্যথা নেই বলে মনে করছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভেদ জারিফ এমন মন্তব্য করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রার্থীরা কে কি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে তা তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। মূল বিষয় হচ্ছে পরবর্তী প্রেসিডেন্ট কোনপথে হাঁটবে তা-ই দেখার বিষয়।

যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ ইরান। ইরানের কাছে মার্কিন নির্বাচন যে অনেক ভাবনা-চিন্তার বিষয় হবে সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু পুরনো সেই চিন্তা-ভাবনাকে পরিবর্তন করে পররাষ্টমন্ত্রী জাভেদ জারিফের বক্তব্য রীতিমতো হতবাক করার মতো। তবে তার বক্তব্যে এটাই ফুটে উঠেছে—যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে প্রতিশ্রুতির কথামালা নয়, বরং নির্বাচনের পর হোয়াইট হাউজ ইরানের সঙ্গে কেমন আচরণ করবে তা-ই দেখার বিষয়। মার্কিন নিউজ চ্যানেল সিবিএসকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে তিনি এ কথা বলেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প বা জো বাইডেনের মধ্যে ইরান কাউকেই প্রাধান্য দিচ্ছে না উল্লেখ করে জাভেদ জারিফ বলেন, আমেরিকা যদি ইরানের বিরুদ্ধে ধ্বংসাত্মক তত্পরতা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয় সেটা হবে তেহরানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সেক্ষেত্রে হোয়াইট হাউজের দায়িত্ব কে পেল তাতে ইরানের কিছু যায় আসে না। ইরান তার পরমাণু সমঝোতা নিয়ে আমেরিকার সঙ্গে আরেকবার আলোচনা করবে না বলেও পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, জো বাইডেন ভালো করেই জানেন যে, তিনি নির্বাচিত হলেও ইরান পরমাণু সমঝোতা নিয়ে আমেরিকার সঙ্গে আরেকবার আলোচনায় বসবে না।

ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার আরোপিত নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এসব নিষেধাজ্ঞায় ইরানের ক্ষতি হয়েছে ঠিকই, কিন্তু আমেরিকা ইরানে যে রাজনৈতিক পরিবর্তন চেয়েছে তা তারা করতে পারেনি। ইরান আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করছে বলে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো যে অভিযোগ করছে সে সম্পর্কে এক প্রশ্নের উত্তরে জারিফ বলেন, ট্রাম্প হচ্ছেন একমাত্র ব্যক্তি যিনি আমেরিকার নির্বাচনি ব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ এবং এই ব্যবস্থার চরম অবমাননা করছেন।

সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, ইরান ও রাশিয়ার কাছে যুক্তরাষ্ট্রের ভোটারদের তথ্য রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ডেমোক্র্যাট ভোটারদের হুমকি দিয়ে মেইল পাঠানোর পেছনে ইরানের হাত রয়েছে। দেশটির পাশাপাশি রাশিয়ার কাছেও যুক্তরাষ্ট্রের ভোটারদের তথ্য রয়েছে বলে দাবি করা হয়। জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালক জন র‌্যাটক্লিফ জানান, ঐ ইমেইলগুলো কট্টর ডানপন্থি গ্রুপের আদলে এসেছে। জন র‌্যাটক্লিফের সঙ্গে একমত প্রকাশ করেছিলেন এফবিআইয়ের পরিচালক ক্রিসটোফার রে। এদিকে ইরান বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের মতো অন্য কোনো দেশের নির্বাচনে তেহরান হস্তক্ষেপ করে না।

ইত্তেফাক/এসি