রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
রাঙ্গুনিয়া সিনিয়র সহকারী জজ আদালত ভবনে বৃষ্টির সময় দেওয়াল ও ছাদ চুইয়ে পানি পড়ায় স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তাছাড়া বিচারকের খাস কামরা এবং সেরেস্তাদারের কামরা ছোট। প্রয়োজনীয় আসবাবপত্রের অভাবে নথিপত্র স্তূপাকারে সংরক্ষণ করতে হচ্ছে। মেঝে স্যাঁতসেঁতে। আদালতে আসা শামশুল আলম জানান, প্রয়োজনীয় সুবিধা না থাকায় আদালতে বিচারপ্রার্থীরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। বৃষ্টির সময় বাইরে ভিজতে হয়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বিচারপ্রার্থী মানুষের উপস্থিতি এবং বিচারিক কার্য পরিচালনায় আদালতের কর্মচারী এবং আইনজীবীদের প্রচণ্ড ভিড়ের মধ্যে ছোটাছুটি করতে হচ্ছে। আদালত ভবনে সাইনবোর্ড নেই। সদ্য রংকাজে ভবনে বাহ্যিক চাকচিক্য দেখা গেলেও বিচার প্রার্থীদের বসার নির্দিষ্ট স্থান নেই। মামলায় হাজিরা দিতে আসা বিচারপ্রার্থীসহ অন্যদের ভেতরে-বাইরে, বারান্দায় যত্রতত্র দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মাসুদুর রহমান জানান, ভিন্ন প্রশাসনিক ব্যবস্থার কারণে সমস্যা এবং উন্নয়নের বিষয়ে উপজেলা পরিষদের ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই।
আদালতের সেরেস্তাদার দিলীপ দাশ আদালত ভবনের সমস্যার বিষয়ে স্বীকার করে জানান, সম্প্রতি রঙের কাজ করার সময় ভবনের সামনের অংশে খচিত রাঙ্গুনিয়া সিনিয়র সহকারী জজ আদালতের নাম মুছে গেছে। তবে দেওয়াল এবং ছাদের জরাজীর্ণ অবস্থায় ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। আদালতে বর্তমানে দুই হাজারেরও বেশি মামলা বিচারাধীন আছে। প্রতিদিন শত শত বিচারপ্রার্থী মানুষের ভিড় হয়। সমস্যার কারণে মামলার বিচার কার্যক্রমও দীর্ঘায়িত হচ্ছে। বর্তমানে একমাত্র সহকারী জজ শ্রী জ্ঞান তঞ্চংগ্যা অতিরিক্ত মামলার বিচারিক কার্য সম্পন্ন করতে হিমশিম খাচ্ছেন। ২০১৭ সালে সিনিয়র সহকারী জজ আদালতের সহকারী জজ কাউচার আলম রাঙ্গুনিয়া চৌকি আদালতের নতুন ভবন নির্মাণ এবং বিদ্যমান ভবন পুনঃনির্মাণ ও সংস্কার করার নিমিত্তে ছক পূরণ করে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা ইউনিট সচিবালয়ে অগ্রগতির জন্য চট্টগ্রাম জেলা ও দায়েরা জজের কাছে আবেদন প্রেরণ করেন। কিন্তু এখনো কোন ব্যবস্থা হয়নি।