সুষ্ঠু সংরক্ষণের অভাবে নষ্ট হয় ৩০-৪০ শতাংশ পেঁয়াজ

পশ্চিমের ছয় জেলা

ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি

পশ্চিমের জেলাগুলোতে উত্পাদিত পেঁয়াজের একটা বড় অংশ সুষ্ঠু সংরক্ষণের অভাবে পচে নষ্ট হয়। চাষিরা উত্পাদিত পেঁয়াজ নিজস্ব পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করে থাকেন। এতে পেঁয়াজ ওঠানোর পর থেকে বিক্রি পর্যন্ত সময়ে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পেঁয়াজ পচে নষ্ট হয়ে থাকে। ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার হরিহরা গ্রামের চাষি বিপ্লব বিশ্বাস জানান, সাত বিঘা জমিতে ৫০০ মণ পেঁয়াজ হয়েছিল। পেঁয়াজ ওঠার পর দিনে দিনে ৪০০ মণ বিক্রি করেন। ১০০ মণ পেঁয়াজ ঘরের মাচাংয়ে রেখেছিলেন। এর মধ্যে ৫০ মণ পচে যায়। মনোহরপুর গ্রামের চাষি মাসুদ হাসান পান্না জানান, তার ১০০ মণ পেঁয়াজের মধ্যে ৪০ মণ পচে নষ্ট হয়েছে। শৈলকুপা বাজারের ব্যবসায়ী লিয়াকত জোয়ার্দ্দার বলেন, তার মজুত আড়াই শ মণ পেঁয়াজের মধ্যে প্রায় অর্ধেক পচে নষ্ট হয়েছে। ব্যবসায়ী আব্দুস সোবহান বলেন, তার মজুত পেঁয়াজ ছিল ২১৭ মণ। এর মধ্যে ৫৭ মণ পচে গেছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর আঞ্চলিক অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত মৌসুমে যশোর, মাগুরা, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলায় ৩৪  হাজার ৫৯০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের চাষ হয়েছিল। পেঁয়াজ উত্পাদনের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৫৫ হাজার ৩১০ টন। ফরিদপুর মশলা গবেষণা উপকেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আলাউদ্দিন খান বলেন, আমাদের দেশে সংরক্ষণকালে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পেঁয়াজ পচে নষ্ট হয়ে থাকে। এই পচন কমাতে পেঁয়াজ খেত থেকে ওঠানোর ২০ দিন আগে সেচ দেওয়া বন্ধ করতে হবে। পেঁয়াজে অতিরিক্ত ইউরিয়া সার ব্যবহার করা যাবে না। পরিপক্ব হলে পেঁয়াজ তুলতে হবে। ওঠানোর পর ৮-১০ দিন গাছসহ হালকা ছায়া জায়গায় শুকাতে হবে। এমনভাবে মজুত করতে হবে, যাতে বাতাস চলাচল করতে পারে। ১৫-২০ দিন পর পর বাছাই করতে হবে। তিনি আরো বলেন, পেঁয়াজ সংরক্ষণের কোল্ডস্টোর অত্যন্ত ব্যয়বহুল। পরিবর্তে তারা ফরিদপুর মশলা গবেষণা উপকেন্দ্রে অ্যাম্বিয়েন্ট স্টোরেজ তৈরি করেছেন। এ অ্যাম্বিয়েন্ট স্টোরে পেঁয়াজ মজুত করলে পচন কমানো যায়। ভালো আলো-বাতাসের ব্যবস্থা থাকলে পচন ১৫ থেকে ২০ শতাংশে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে। ঝিনাইদহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃপাংশু শেখর বিশ্বাস বলেন, সংরক্ষণের অভাবে উত্পাদিত পেঁয়াজের একটা বড় অংশ পচে যায়।