ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে সীতাকুণ্ড ও মিরসরাই এলাকায় গড়ে ওঠা শিল্পপ্রতিষ্ঠানে পানি ও গ্যাসের সংকট প্রকট হয়েছে। এতে শিল্পকারখানায় উত্পাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পানির স্তর অস্বাভাবিকভাবে নিচে নেমে যাওয়ায় এখানে গভীর নলকূপে বিশুদ্ধ পানি মিলছে না। এখানে বড় বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ এবং অন্য জায়গা থেকে পানি সংগ্রহ করে ব্যবহার করতে হচ্ছে। অন্যদিকে বিরাজমান গ্যাসলাইন দিয়ে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের গ্যাসের চাহিদাও মেটানো যাচ্ছে না। শিল্পায়নের প্রসারের কারণে গ্যাস ও পানির চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, সীতাকুণ্ড ও মিরসরাই এলাকায় শিল্পে পানি ও গ্যাসের চাহিদা নিরসনের জন্য চট্টগ্রাম ওয়াসা ও কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানি পৃথক প্রকল্প গ্রহণ করেছে।
সীতাকুণ্ড ও মিরসরাই এলাকায় মহাসড়কের উভয় পাশে হালকা ও ভারী শিল্পের ব্যাপক প্রসার ঘটছে। চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে উন্নত যোগাযোগব্যবস্থার কারণে শিল্পোদ্যোক্তারা সীতাকুণ্ড এলাকাকে বেছে নিচ্ছেন। এখানে রি-রোলিং মিল, সিমেন্ট, ঢেউটিন, এলপি গ্যাস, অক্সিজেন তৈরির কারখানা, কটন মিল, টেক্সটাইল মিল, গার্মেন্টসসহ নানা ধরনের রপ্তানিমুখী শিল্পকারখানা রয়েছে। তবে এখানে পানির সংকট প্রকট। এলাকাবাসী ও শিল্পোদ্যোক্তারা গভীর নলকূপ বসিয়েও বিশুদ্ধ পানি পাচ্ছেন না। বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে শিল্পকারখানায় ব্যবহার করা হচ্ছে। এলাকার জনপ্রতিনিধি ও শিল্পমালিকেরা দীর্ঘদিন যাবত্ পানির সংকট নিরসনের জন্য সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে দাবি জানিয়ে আসছেন।
আবুল খায়ের গ্রুপের সিনিয়র ম্যানেজার (প্রশাসন) ইমরুল কাদের ভুঁইয়া বলেন, ‘আমাদের কারখানায় জলাধারে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে এবং কিনে ব্যবহার করতে হচ্ছে। লবণাক্ত পানি শিল্পে ব্যবহার করা যাচ্ছে না।’ পিএইচপির জেনারেল ম্যানেজার অভিজিত্ সাহা ইত্তেফাককে বলেন, সীতাকুণ্ডে দীর্ঘদিন যাবত্ পানির সংকট বিরাজ করছে। স্থানীয় সোর্স থেকে প্রাপ্ত পানি দিয়ে চাহিদা মেটানো যাচ্ছে না। ফেনীর প্রজেক্ট থেকে পানি এনে ব্যবহার করতে হচ্ছে।’
চট্টগ্রাম ওয়াসা সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে সীতাকুণ্ড ও মিরসরাই এলাকায় শিল্পায়নে পানির সংকট নিরসনে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে এলাকার সার্ভে রিপোর্ট তৈরি হয়েছে। দৈনিক ২৮ কোটি লিটার পানি সরবরাহের লক্ষ্য নিয়ে প্রকল্পের কার্যক্রম হাতে নেওয়া হচ্ছে। নগরীর মোহরা এলাকায় স্থাপিত পানি শোধনাগারের পাশে পৃথক একটি শোধনাগার নির্মাণ করা হবে। এটি থেকে দৈনিক ৯ থেকে ১৪ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করা যাবে। ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম বলেন, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে সীতাকুণ্ড ও মিরসরাই এলাকায় পানি সরবরাহের জন্য একটি প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে সীতাকুণ্ড এলাকায় শিল্পকারখানায় পর্যাপ্ত গ্যাস মিলছে না। সরবরাহ লাইন ছোট হওয়ায় চাহিদা অনুপাতে গ্যাস সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে না। শিল্প সম্প্রসারণের কারণে প্রতিনিয়ত গ্যাসের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে শিল্পে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহের জন্য আলাদা পাইপলাইন বসানোর প্রকল্প নিয়েছে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিভিউশন কোম্পানি। সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাট থেকে মিরসরাই পর্যন্ত ২০ ইঞ্চি ব্যাসের একটি গ্যাস সরবরাহ লাইন বসানো হবে। প্রায় ৬০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য পাইপলাইনটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ২২০ কোটি টাকা। কোম্পানির নিজস্ব অর্থায়নে পাইপলাইনটি নির্মাণ করা হবে। এতে এসব এলাকায় বর্তমানে চালু থাকা এবং ভবিষ্যতে স্থাপিত শিল্পে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ করা যাবে।
কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানির কর্মকর্তারা জানান, সীতাকুণ্ড ও মিরসরাই শিল্পাঞ্চলে অনেকেই চালু শিল্পের বর্ধিত ইউনিট নির্মাণের মাধ্যমে শিল্পকারখানা সম্প্রসারণ করছে। এতে গ্যাসের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এখানে ইতিপূর্বে নির্মিত ৩৬ ইঞ্চি ব্যাসের সঞ্চালন লাইন রয়েছে, যেটি দিয়ে এলএনজি গ্যাস ঢাকাসহ অন্যান্য এলাকায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এই সঞ্চালন লাইন থেকে সীতাকুণ্ড ও মিরসরাই এলাকায় দুটি পয়েন্টের মাধ্যমে গ্যাস সংগ্রহ করা হবে।
জানতে চাইলে কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানির মহাব্যবস্থাপক (ইঞ্জিনিয়ারিং ও সার্ভিসেস) প্রকৌশলী সারওয়ার হোসেন বলেন, সীতাকুণ্ড ও মিরসরাই এলাকায় ২০ ইঞ্চি ব্যাসের নতুন গ্যাস সরবরাহ লাইন নির্মাণ করা হবে।