ইলিশ রপ্তানি বন্ধ থাকায় বিদেশে অন্যান্য সাদা মাছের রপ্তানিও কমে গেছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাদা মাছ আমদানিকারকরা বেশির ভাগ টেংরা, পুঁটি, মলা-ডেলা, পাবদাসহ অন্যান্য সাদা মাছের সঙ্গে ইলিশও মিশিয়ে আমদানি করেন। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশ থেকে ইলিশ রপ্তানি বন্ধ থাকায় আমদানিকারকদের অনেকে বাংলাদেশের সাদা মাছ আমদানিতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন।
হিমায়িত মত্স্য প্রক্রিয়াজাত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিএফএফইএ) সভাপতি কাজী বেলায়েত হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, তারা সাদা মাছ রপ্তানি করতে গেলে আমদানিকারক জানতে চায় ইলিশ আছে কি না। কারণ তারা অন্যান্য মাছের সঙ্গে ইলিশ মিশিয়ে নিয়ে থাকে। ইলিশ না থাকায় তারা ভিয়েতনাম, মিয়ানমার কিংবা অন্য দেশ থেকে সাদা মাছ আমদানি করে থাকে। ফলে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকগণ ইলিশ ছাড়া অন্যান্য সাদা মাছ বিক্রি করতে কষ্টে পড়তে হয়। তাই তিনি অবিলম্বে ইলিশ রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানান।
সরকারি পরিসংখ্যান ও মত্স্য রপ্তানি সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশে মাছের উত্পাদন বৃদ্ধি পেলেও এর রপ্তানি দিন দিন কমে আসছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশে অন্যান্য মাছের ন্যায় ইলিশের উত্পাদন গত কয়েক বছরে দ্বিগুণ হয়েছে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে যেখানে ইলিশের উত্পাদন ছিল ৩ লাখ ৮৭ হাজার ২১১ টন। ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৫৫ হাজার টন। সরকারি সূত্রের মতে ২০২০-২১ অর্থবছরে ইলিশ উত্পাদন রেকর্ড পরিমাণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
জানা যায়, বিশ্বে যে পরিমাণ ইলিশ উত্পাদন হয় তার শতকরা ৮০ ভাগ বাংলাদেশে উত্পাদিত হয়ে থাকে। ইলিশসহ অন্যান্য অভ্যন্তরীণ মত্স্য উত্পাদনে বাংলাদেশ ৪র্থ। মত্স্য উত্পাদন বৃদ্ধি পেলেও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, পরিকল্পনা ও সঠিক সিদ্ধান্তের অভাবে রপ্তানি দিন দিন কমে আসছে। সংশ্লিষ্টদের মতে ইলিশ রপ্তানি বন্ধ, সাদা মাছের রপ্তানিতে নগদ সহায়তা হ্রাস ও দেশীয় মাছের অধিক মূল্য সংযোজন না হওয়ায় মাছ রপ্তানিতে বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়ছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০১৩-২০১৪ অর্থবছরে হিমায়িত চিংড়ি রপ্তানি ছিল ৪৭ হাজার ৬৩৫ টন। অথচ ২০১৯-২০২০ নেমে দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার ৩৬ টন। ২০১৩-২০১৪ অর্থবছরে হিমায়িত সাদা মাছ রপ্তানি হয়েছে ১১ হাজার ৬৭৭ টন। কিন্তু ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে তা নেমে প্রায় ১০ হাজার টনে দাঁড়িয়েছে।
দেশের শীর্ষ হিমায়িত মাছ রপ্তানিকারক এসএম আমজাদ হোসেনের মতে, ইলিশসহ সাদা মাছের বিদেশি ভোক্তাদের মধ্যে প্রবাসে থাকা বাঙালি ও এশিয়া অঞ্চলের লোকজন বেশি। ইউরোপ, আমেরিকাসহ মধ্যপ্রাচ্যের লোকজন বাংলাদেশের মাছ খায় না। প্রবাসী বাঙালিরা বাংলাদেশের মাছের প্রতি বেশি আগ্রহী। বর্তমানে সৌদি আরব, আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, মালয়েশিয়া, বৃটেন আমেরিকা, ইতালি, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত প্রবাসী বাঙালিদের মধ্যে অন্যান্য মাছের ন্যায় ইলিশের প্রতি ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। তিনি বলেন, প্রবাসীরা বিভিন্ন সময় বিশেষ করে ইলিশ রপ্তানির দাবি জানিয়ে আসছে।