জুয়েল হত্যাকাণ্ডে পৃথক ৩টি মামলায় ১১৪ আসামী, গ্রেফতার ২১

লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারীতে কেরাআন শরিফ অবমাননার মিথ্যা অভিযোগে জুয়েল হত্যাকাণ্ডে ১১৪ জনকে আসামী করে পৃথক ৩টি মামলা দায়ের হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের ৭ দিনে গ্রেফতার ২১ জন  হলেও  মূল আসামীসহ এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে ৯৩ জন। প্রতি রাতে গ্রেফতার হচ্ছে ৫/৬ জন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, জুয়েল হত্যা মামলায় বাদী হয়েছেন তার ভাই সাইফুল আলম। হত্যা মামলায় আসামী করা হয়েছে ৪৩ জনের নামে। এছাড়াও আরও অনেককে অজ্ঞাতনামায় আসামী করা হয়েছে। পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় পাটগ্রাম পুলিশের এসআই শাহজাহান বাদী হয়ে পুলিশ এর উপর হামলার অভিযোগে ৪৯ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেছেন। এই মামলায়েও আরও অনেকে রয়েছে অজ্ঞাতনামায়। এছাড়াও বুড়িমারী ইউনিয়ন পরিষদ ভবন ভাঙচুর ইউপি চেয়ারম্যান শাহ নেওয়াজ নিশাত বাদী হয়ে ২২ জনের নাম দিয়ে এবং অজ্ঞাতনামায় অনেককে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। 

এদিকে লালমনিরহাটের বুড়িমারীতে কোরআন অবমাননায় গুজবে সহিদুন্নবী জুয়েল হত্যাকাণ্ড মামলায় আজ ৪ নভেম্বর আরো নতুন করে ৫ আসামী আটক করেছে পুলিশ। বুধবার ভোর রাতে অভিযান চালিয়ে পাটগ্রাম থানার পুলিশ ও ডিবি পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে। আটককৃত আসামীদের বুধবার দুপুরে আদালতে প্রেরণ করে পাটগ্রাম থানার পুলিশ। আসামীদের সহকারী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফেরদৌসী বেগম এর আদালতে তোলা হয়। আদালতের বিচারক আসামীদের তাদের জেল হাজতে প্রেরণ এর নির্দেশ দেন। তবে হত্যা মামলায় আটক বুড়িমারী শ্রমিক নেতা রবিউল ইসলাম ওরফে পিচ্চি রবিউলকে ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। রিমান্ড আবেদনের শুনানি আগামীকাল নির্ধারণ করে। 

আরো পড়ুনঃ মিশিগানে ভোটগণনা বন্ধে ট্রাম্প শিবিরের মামলা

জানা গেছে গত বৃহস্পতিবার সহিনুন্নবী জুয়েল কে বুড়িমারীতে হত্যা করে পুড়িয়ে দেয় তার মরদেহ। হত্যা,ইউনিয়ন পরিষদ ভাঙচুর ও পুলিশের উপর হামলার দায়ের করা ৩টি মামলা। হত্যা মামলায় ৪৩ জন নামীয় আসামী করা হয়। আর বুড়িমারী ইউনিয়ন পরিষদ ভাঙচুর মামলায় ২২জন নামীয়সহ আরও অনেককেই অজ্ঞাত আসামী করা হয়েছে। এ ছাড়াও পুলিশ বাদী হয়ে আরও ৪৯ জন কে নামীয় আসামী করা হয়। তিনটি মামলায় অজ্ঞাত আসামী করা হয় আরও অনেককে। এ নিয়ে ২১জন আটক করা হয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রধান মুল আসামী হোসেন ডেকোরেটর মালিক হোসেন আলী এখনো পলাতক রয়েছে। লালমনিরহাট ডিবি পুলিশের অফিসার ইনচার্জ ওমর ফারুক জানান, বাকী আসামীদের গ্রেফতারের জোর প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। 

পুলিশ সুপার আবিদা সুলতানা জানান, ওই পৈশাচিক ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমও সেখানে থাকা বিভিন্ন ভিডিও চিত্রের মাধ্যমে সহিংস ঘটনায় অংশগ্রহণ করা ব্যক্তিদের ছবি দেখে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই গ্রেফতার অভিযান চলবে। কোন নিরাপরাধ ব্যক্তিকে কোন অবস্থায় হয়রানি করা হবে না। পুলিশ ও গোয়েন্দারা খুব সতর্কভাবে মাঠে কাজ করছে।   


ইত্তেফাক/এমএএম