পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় শাফা বন্দর একটি বেসরকারি ক্লিনিকে এক গৃহবধূর শরীরে রক্তের ক্রস ম্যাচিং ছাড়াই দেওয়া হয়েছে অন্য গ্রুপের রক্ত। এতে গুরুতর অবস্থায় ওই গৃহবধূ গত তিন দিন ধরে খুলনার গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে রোগীর স্বজন ও উপস্থিত জনতা মিলে ওই ক্লিনিকের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট সমিউল আলমকে মারধর করেন। ভুল চিকিৎসার শিকার গৃহবধূ সুরমা বেগম (২৬) উপজেলার ধানী শাফা ইউনিয়নের তেতুলবাড়ীয়া গ্রামের মোস্তফা বিশ্বাসের স্ত্রী।
আরো পড়ুনঃ আদালতের নিষেধাজ্ঞার পরও অবৈধ বালু বাণিজ্য, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার
গৃহবধূ সুরমার ভাই মনির হোসেন জানান, বোনের চিকিৎসার জন্য শুক্রবার তাকে সাফা বাজার এলাকার মনির হোসেন সার্জিক্যাল ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়। পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসক রোগীকে রক্ত দেওয়ার পরামর্শ দেন। এসময় ক্লিনিকে পরীক্ষা শেষে তার রক্তের গ্রুপ বি-পজিটিভ শনাক্ত করে স্বজনদের এই গ্রুপের রক্তের বন্দোবস্ত করতে বলা হয়। পরে সোমবার দুপুরে রোগীর স্বজনরা একজন রক্তদাতাকে নিয়ে আসলে ‘ক্রসম্যাচ’ না করেই সুরমাকে রক্ত দেওয়া হয়। রক্তদান শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যে রোগীর অবস্থার অবনতি হলে স্বজনরা তার রক্ত দেওয়া বন্ধ করে দেন। পরে রক্তের গ্রুপ পরীক্ষা করে জানা যায়, সুরমার রক্তের গ্রুপ ও-পজিটিভ। শেষে ওই রাতেই গুরুতর অবস্থায় সুরমাকে নিয়ে খুলনায় বেসরকারি গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।
গাজী মেডিকেলের চিকিৎসকরা জানান ঢাকা থেকে পরীক্ষার রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত রোগীর অবস্থা সম্পর্কে কিছুই স্পষ্ট করে বলা যাবেনা।
এ বিষয়ে ক্লিনিকের মালিক মনির হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, রোগী ও তার স্বজনরাই জানিয়েছিল যে রোগীর রক্তের গ্রুপ বি-পজিটিভ। রক্তের ক্রস ম্যাচিংও মিলে গিয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন।
এ বিষয় পিরোজপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো: হাসনাত ইউসুফ জাকী বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে অভিযুক্ত ক্লিনিকের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইত্তেফাক/এমএএম